আবারো ফাঁস হলো ফেসবুক ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য

আবারো ডেটা ফাঁসের অভিযোগ উঠেছে ফেসবুকের বিরুদ্ধে। বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ার তথ্য ফাঁসের ঘটনা প্রায়ই শোনা যায়। ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় অভিযোগ আসে ফেসবুকের বিরুদ্ধে। ফেসবুকের তথ্য চুরির মাধ্যমে ব্যবহারকারীর তথ্যকে কাজে লাগিয়ে নির্বাচনী প্রচার চালানো হয়েছিল। এতে প্রায় 5 কোটি গ্রাহকের তথ্য হাতিয়ে নেয়া হয়েছিল বলে দাবি করা হলে। এ নিয়ে মার্ক জুকারবার্গ সঠিক তথ্য প্রকাশ করে যে 5 কোটির অধিক তথ্য ফাঁস হয়েছিল। তখন তিনি বলেন নয় কোটির বেশি ব্যক্তির তথ্য ফাঁস হয়েছিল তবে তাদের মধ্যে সবচাইতে বেশি ব্যবহার করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের।

এরপরে কিছু সংখ্যক ব্যক্তির তথ্য নেওয়া হয় যারা যুক্তরাজ্যের। এ কাজে সহযোগিতা করেছিল যুক্তরাষ্ট্রের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা।তারা ডোনাল্ড ট্রাম্পের হয়ে প্রচারণা চালিয়েছিল।তারা গ্রাহকের তথ্য বিশ্লেষণের মধ্যমে পদক্ষেপ গ্রহন করেছিল। এ ঘটনাটি প্রচারিত হলে ফেসবুকের প্রধান কর্মকর্তা মার্ক জুকারবার্গ কে প্রচণ্ড চাপের মুখে পড়তে হয় এবং সে একটি পোস্ট দেয়, আমাদের কিছু করার ছিল না ভুল আমাদেরই! তারা তাদের ভুল স্বীকার করে নেয়।
এবং বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান সোচ্চার হওয়ার কারণে কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা প্রতিষ্ঠানে তল্লাশির পরোয়ানা জারির আবেদন করা হয়।
এবং ব্রিটিশ পার্লামেন্টের তদন্তকারী কমিটি। অন্য প্রতিষ্ঠানের কাছে ফেসবুকের তথ্য গেল কিভাবে এ নিয়ে জবাবদিহি আদেশ দেয়।


এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আবার আলোচনার মুখে বলল ফেসবুক কোম্পানি। আবারো ফেসবুকের ব্যাবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য উন্মুক্ত হলো।
সাইবার সিকিউরিটি ফার্ম আফগার্ডের বিশেষজ্ঞরা বলছে অ্যামাজনের ক্লাউড কম্পিউটিং সার্ভারের মাধ্যমে বিশাল দুটি ডাটা সেট খুঁজে পাওয়া গিয়েছে। যেগুলোতে গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য, একাউন্টের নাম এবং ইমেইল সহ পোস্ট গানের তালিকা ইত্যাদি মোট ৫৪ কোটি তথ্য আপলোড করেছে মেক্সিকো ভিত্তিক কাজ ছাড়া কালেক্টিভ নামের একটি থার্ড পার্টি অ্যাপ ডেভলপার কোম্পানী যারা অ্যামাজনের ওয়েব সার্ভিসের মাধ্যমে ব্যবসা করে। তারা এগুলো সংগ্রহ করেছে এবং পরিশেষে তা আপলোড করেছেন। এবং আর এক সেট ডাটা আপলোড করেছে অ্যাড দা পুল নামের আরেকটি অ্যাপ।

আবগার্ড অ্যামাজনকে গত জানুয়ারিতে জানিয়েছিল যেটা সেট উন্মুক্ত হওয়ার ব্যাপারে। অ্যামাজন জানাই একাউন্টের মালিক কে অবগত করা হয়েছে কিন্তু তারা কোন পদক্ষেপ নেয়নি। গত বুধবার এর আগেও তারা সেটিংস পরিবর্তন করার জন্য কাজ করে নাই। এরপরে সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ এর তৎপরতার ফলে ফেসবুক কোম্পানি সেটিংস পরিবর্তন করে। এবং তারা জানায় এ ব্যাপারে সতর্ক হওয়ার সাথে সাথেই ডাটা সেট গুলো নামিয়ে ফেলার জন্য দ্রুত কাজ করছে ফেসবুক এবং অ্যামাজনের ক্লাউড ষ্টোরেজ  কর্মকর্তারা।

ফেসবুক ছাড়া আর কারো কাছে এই ডাটা সেট থাকার কথা নয়। তাই বলা যায় এসব তথ্য আর ফেসবুকের আয়ত্তে নেই।তাহলে কি সত্যই ফেসবুক গ্রাহকদের তথ্যের নিরাপত্তা প্রাদানে ব্যার্থ? ফেসবুক অথরিটি থার্ড পার্টি অ্যাপ গুলো কে গুলোকে কোন প্রকার তথ্য নেয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করে দিয়েছে কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা তথ্য ফাঁস কেলেঙ্কারীর পরে। কিন্তু আবারও সেই একই কাজ হল।

(Visited 35 times, 4 visits today)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *