ধূমপান পরিত্যাগ করার কয়েকটি উপায়

ধূমপান হচ্ছে একটি জীবন ঘাতি আসক্তি। এটি আমাদের ফুসফুস কে  প্রচন্ড ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করে  এবং সারা শরীরের  ক্ষতি করে থাকে। এরপরেও ধূমপানের সাথে আসক্ত ব্যক্তির সংখ্যা দিন দিন বেড়ে চলছে।

ধূমপানের কারণে হৃদরোগ, ক্যান্সার এবং ফুসফুস ক্যান্সার হয়ে থাকে। এসকল জেনেও মানুষ ধূমপান করে থাকে কারণ একবার শখের বশে বা বন্ধু বান্ধবের পাল্লায় পড়ে ধূমপান করতে শুরু করে। এরপর এটি একটি নেশায় পরিণত হয়ে যায়। এছাড়াও অবসাদ, মানসিক দুশ্চিন্তার কারণে মানুষ ধূমপানে আসক্ত হয়ে পড়ে। তবে অবসাদ এবং মানসিক দুশ্চিন্তা চলে গেলেও ধূমপানের নেশা আর কাটিয়ে ওঠা হয় না। যার ফলশ্রুতিতে মানুষ ধূমপানের প্রতি তীব্র আসক্ত হয়ে ওঠে এবং এর মাত্রা দিন দিন বাড়তেই থাকে তখন আর অবসাদগ্রস্ততার  কারণে ধূমপান করা হয় না। বরংচ সুস্থ এবং স্বাভাবিক মানুষ ধূমপান আর শক্ত হয়ে যাওয়ার কারণে তারা ধূমপান না করতে পারলে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হয়। সারা পৃথিবীতে অসংখ্য লোক ধূমপানের কারণে প্রতিবছর মৃত্যুবরণ করে।  ধূমপানের কুফল জানানোর জন্য।জনগণকে সচেতন করার জন্য প্রত্যেকটি দেশের সরকার বিভিন্ন ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এছাড়া  বিড়ি সিগারেটের প্যাকেটের গায়ে লেখা থাকে সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ। এরকম মানুষ ধূমপান করেন। অনেকেই বলে ধূমপান ছেড়ে দেওয়া খুবই কঠিন কিন্তু না আপনি চাইলে খুব সহজেই ধূমপান পরিত্যাগ করতে পারেন। এর কারণে হয়তো কিছুদিন আপনার একটু সমস্যা হতে পারে তবে পরবর্তীতে ঠিক হয়ে যাবে। আসুন তাহলে আমরা জেনে নেই ধূমপান থেকে কিভাবে  মুক্তি পাওয়া যায়,

সর্ব প্রথমে আপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে আপনি এরপরে আর কখনোই সিগারেট খাবেন না বা ধূমপান করবেন না। কখনোই এটা ভেবে মন দুর্বল করা যাবে না যে আপনি ধূমপান ছাড়তে পারবেন না। কারণ অসংখ্য ব্যক্তি আছে যারা ধূমপান ছেড়ে এখন সম্পূর্ণ ধুমপানমূক্ত জীবন যাপন করছে। আপনিও তাদের ব্যতিক্রম নন। তাই আপনাকে আপনার সিদ্ধান্তে অটল থাকতে হবে। এবং ইতি মনেপ্রাণে স্থির করে নেবেন।

সিদ্ধান্ত গ্রহনের পরবর্তী ধাপ হচ্ছে আপনার কাছে থাকা সিগারেটের প্যাকেট ছুঁড়ে ফেলে দিন অথবা নষ্ট করে ফেলুন। এবং একদিন ধূমপান না করে এর পার্থক্য অনুভব করুন। দেখুন আপনার ভিতরে কি পরিবর্তন পরিলক্ষিত হচ্ছে। হয়তো প্রথমে একটু কষ্ট হবে এর পরেও হাল ছেড়ে দেবেন না। কখনো এটা চিন্তা করবেন না যে আস্তে আস্তে করে ছেড়ে দেবেন। কারণ অনেকেই আছে এরকম চিন্তা করে আবার পুনরায় ধূমপান করা শুরু করে দেয়। তাই এটা ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে হবে একেবারেই।

এটা ছেড়ে দেওয়ার পরে কখনোই গম্ভীর অবস্থায় থাকবেন না। মনকে উৎফুল্ল রাখার চেষ্টা করুন।এবং যখন আপনি সিগারেট খেতেন এই সময়টা আনন্দের সাথে কাটানোর চেষ্টা করুন। প্রাকৃতিক পরিবেশের স্বাদ নিন। আপনি  এই সময়টা একটু হাঁটাচলা করুন। এবং যখন আপনার সিগারেট খাওয়ার নেশা হলো তখন চুইংগাম জাতীয়  কিছু খেতে পারেন। এতে সিগারেটের নেশা আস্তে আস্তে কমে আসবে।

ধূমপানে আসক্ত বন্ধুদের সুকৌশলে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন। কারণ তাদের সাথে আপনি পুনরায় মিশলে আপনার সিগারেট খাওয়ার বক ধূমপান করার প্রবল ইচ্ছা জাগ্রত হবে।এবং আপনি ধূমপান পরিত্যাগ করতে ব্যর্থ হবেন। আর এ কারণে যতদিন পর্যন্ত আপনার সম্পূর্ণরূপে ধূমপান পরিত্যাগ করতে না পারেন ততদিন পর্যন্ত তাদের সঙ্গ সম্পূর্ণরূপে বর্জন করার চেষ্টা করুন।

আপনার পার্শ্ববর্তী যারা ধূমপান পরিত্যাগ করছে এবং সুস্থ জীবন যাপন করছে তাদের দৃষ্টান্ত হিসেবে ব্যবহার করুন। এবং তাদের জীবন থেকে লক্ষ্য করুন তারা নোমান পরিত্যাগ এর ফলে তাদের জীবনে কি কি পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছে। এবং এইটা চিন্তা করুন সে পারলে আপনি অবশ্যই পারবেন ধূমপান পরিত্যাগ করতে।

আপনার ধূমপানের জন্য মাসে বা প্রত্যেকদিন কত টাকা খরচ হয় সেটি হিসাব করে দেখতে পারেন।  এই ধূমপান  যে  আপনার আর্থিক অবনতির কারণ হতে পারে। তা উপলব্ধি করার চেষ্টা করুন। কারণ যারা ধূমপান করে তাদের প্রতি মাসে প্রচুর পরিমাণ টাকা খরচ হয় এই ধূমপানের পেছনে। যার কোন সুফল নেই, রয়েছে শুধুই ক্ষতিকর দিক।

ধুমপান থেকে সচেতনা মুলক বই পড়তে পারেন। যা আপনার মনোবল বৃদ্ধি করবে। এবং যে সকল জায়গায় বসে মানুষ বেশি পরিমাণে ধূমপান করে সেই সকল স্থান পরিত্যাগ করুন।এবং সুন্দর পরিবেশে থাকার চেষ্টা করুন।

এরপরেও যদি মনে করেন ধূমপান পরিত্যাগ করতে পারছেন না তাহলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন। এবং চিকিৎসক আপনার অবস্থা বলছে কাউন্সেলিং দেবে যার মাধ্যমে আপনি সম্পূর্ণরূপে ধূমপান পরিত্যাগ করতে পারেন।

তবে উপরোক্ত বিষয়গুলো মাথায় রাখলে এবং দিব্য মনোবল থাকলে আপনি অবশ্যই সফল হবেন। এবং কোন প্রকার কাউন্সেলিং এর প্রয়োজন হবে না। তাই মনোবল দৃঢ় করুন এবং  ধূমপান পরিত্যাগ এর সংকল্প গ্রহণ করুন।

Similar Posts:

    None Found

(Visited 51 times, 1 visits today)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *