ফিশিং কি এবং এর থেকে বাচার উপায়

ফিশিং হচ্ছে প্রতারণার মাধ্যমে কারো কাছ থেকে তার ব্যক্তিগত তথ্য যেমন নাম,পাসওয়ার্ড, ক্রেডিট কার্ডের তথ্য, ব্যাংক একাউন্টের তথ্য ইত্যাদি নেওয়া। ফিশিং মূলত করা হয় ব্যক্তি কে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে তাদের সাইটে প্রবেশ করানোর মাধ্যমে। যেখানে প্রবেশ এর মাধ্যমে দেখতে ফিশিং এর শিকার হয়। ফিশিং এর ক্ষেত্রে বিভিন্ন নামিদামি ওয়েবসাইটের নাম ব্যবহার করে তারা ফিশিং সাইট তৈরি করে। এবং ওয়েবসাইটটি অবিকল আসল ওয়েব সাইটের মত তৈরি করা হয়। যাতে করে আপনি বুঝতে না পারেন যে এটি আসলে একটি ফিশিং সাইট। এবং এখানে আপনাকে আনা হয়েছে আপনার তথ্য হাতিয়ে নেয়ার জন্য। আপনি সাইটটিতে প্রবেশ করার চেষ্টা করার সাথে সাথেই আপনার নাম,ইমেইল,নম্বর,পাসওয়ার্ড সহ বিভিন্ন তথ্য হ্যাকার এর নিকট চলে যাবে এবং আপনি বুঝতেও পারবেন না। এবং সেখানে লগইন করার চেষ্টা করে আপনাকে অনেক লিংক রিডাইরেক্টের মাধ্যমে মূল ওয়েবসাইটে পাঠিয়ে দেয়া হবে।যাতে করে আপনি বুঝতে না পারেন আপনি ফিশিং এর শিকার হয়েছেন।

ফিশিং মূলত হ্যাকিং এর একটি অংশ। হ্যাক করার জন্যই হ্যাকাররা মূলত এ ফিশিং করে থাকেন। তারা মানুষকে বিভিন্নভাবে বোকা বানানোর মাধ্যমে এ কাজটি করে থাকে।১৯৮৭ সালে প্রথম  ফিশিং পদ্ধতিটির  উৎপত্তি হয়।১৯৯৬ সালে এর নাম ফিশিং(phishing) দেয়া হয়। এটি মূলত মাছ ধরা বা fishing এর ধারনা থেকেই এরকম নাম করন করা হয়। মাছ ধরতে গেলে যেমন টোপ ফেলার মাধ্যমে মাছকে বোকা বানানোর চেষ্টা করা হয়। ফিশিং এর ক্ষেত্রেও ঠিক এরকমটাই হয়।

ফিশিং বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে যেমন ইমেইলের মাধ্যমে এরকম মেইলে আসে যে, আপনার ব্যাংক একাউন্টের তথ্য হালনাগাদ করতে এখানে ক্লিক করুন। বা বলা হয় আপনার একাউন্টটি কিছু সময়ের মধ্যে বন্ধ  করে দেয়া হবে যদি না আপনি আপনার তথ্যের হালনাগাদ না করেন ইত্যাদি। এছাড়া ফোন কলের মাধ্যমে ফিশিং হয়ে থাকে যেমন সম্প্রতি বিকাশ একাউন্ট হ্যাক করার তোলপাড় চলছিল এই ফিশিং এর মাধ্যমে। কারণ প্রথম দিকে বিকাশ একাউন্টের অ্যাপস বের হওয়ার ফলে তখন সিম ছাড়াই বিকাশ একাউন্টে লেনদেন করা যেত অ্যাপস এর মাধ্যমে। শুধুমাত্র পাসওয়ার্ড এবং ওটিপি কোড এর মাধ্যমে লগইন করা যেত বিকাশ একাউন্ট। সে সময়ে বিভিন্ন প্রতারক চক্র ফোন কলের মাধ্যমে মানুষের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। তার আপনাকে ফোন দিয়ে উক্ত প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি দাবি করবে এবং আপনাকে আপনার অ্যাকাউন্ট এর তথ্য হালনাগাদ এর জন্য বলবে। আর এরই ভেতর দিয়ে আপনার থেকে আপনার তথ্য তারা নিয়ে নেবে। তবে বর্তমানে বিকাশ একাউন্ট তাদের সিকিউরিটি ব্যবস্থা আরো জোরদার করছে।

উইকিপিডিয়ার একটি তথ্য অনুযায়ী ২০১১/০৭ থেকে ২০১২/৭ তারিখ পর পর্যন্ত এই এক বছরে সাইবার অপরাধের শিকার হয়েছেন ৭ কোটি ১০ লক্ষ যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। যার প্রত্যেকের গড় আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ২৯০ ডলার।যা তাদের এক বছরের ফাস্টফুড খরচ।

ফিশিং এর থেকে বাঁচতে আমাদের করণীয়-

ফিশিং এর থেকে বাঁচার বিভিন্ন উপায় রয়েছে যেমন আপনাকে কেউ কোন লিংক পাঠালে। আপনি ভালো করে লিঙ্কটি যাচাই করে নিবেন। যে সঠিক লিংঙ্কের সাথে ১০০% মিল রয়েছে কিনা। সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন সেলিব্রেটির বন্ধুত্বের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা।অপরিচিত  কারো ব্যক্তিগত প্রোফাইল ভিজিট করতে বললে তা থেকে বিরত থাকা। উন্নত মানের ওয়েব ব্রাউজার ব্যবহার করা। কারণ উন্নত ব্রাউজার গুলো আপনাকে এই সকল লিংকে প্রবেশ করতে দেবে না বা প্রবেশ করার সময় আপনাকে সতর্ক করে দেবে। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায় ক্রোম ব্রাউজারের নাম।এই গুলো মেনে চললে এবং আমাদের সতর্কতার মাধ্যমে আমরা এর থেকে মুক্ত থাকতে পারি।

Similar Posts:

    None Found

(Visited 8 times, 1 visits today)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *