মোবাইল ফোনের বিবর্তনের ধারা

মোবাইল ফোন শুরুতে কথা বলার বা যোগাযোগ করার উদ্দেশ্যে তৈরি হলেও কালের অগ্রযাত্রায় এটি হয়েছে যোগাযোগের বিনোদন ইত্যাদি সকল কাজের জন্য উপযোগী একটি উপাদান।

তবে বর্তমানে আমরা যে স্মার্ট ফোন ব্যবহার করি তা মোবাইল আবিস্কারের প্রথমদিকে ছিল সম্পুর্নই ভিন্ন।তখনকার মোবাই গুলো ছিল শুধুই কথা বলার জন্য।এটি দিয়ে তখন শুধু একে অপরের সাথে কথা বলতে পারত।এর বাইরে কোন কাজই করা যেত না মোবাইল দিয়ে।সময়ের চাহিদার উপর নির্ভর করে মোবাইলে যুক্ত হয়েছে বিভিন্ন ফিচার যেমন মেসেজ করা, ক্যালকুলেটর যুক্ত হয়।

মোবাইল ফোনের বিবর্তন

তবে এটিও মানুষের চাহিদা পুরন করে রাখতে সক্ষম হয় নাই।তারপরে যুক্ত হলো আরো ফিচার।ক্রমান্বয়ে মোবাইলে যুক্ত হলো কালার ডিসপ্লে যার ফলে মোবাইলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পেল।তখন মোবাইলে যুক্ত হলো ক্যামেরা।সাধারন মানুষ তাদের মোবাইল ফোন দ্বারা তাদের সুন্দর মুহুর্ত গুলো ধারন করে রাখার সুবিধা পেল।ক্রমান্বয় যুক্ত হলো মাল্টিমিডিয়া গান শোনা,ভিডিও দেখা,এফএম রেডিও ইত্যাদি।

এফএম রেডিও, গান শোনা,ভিডিও দেখার সুবিধা সাথে যুক্ত হওয়ার ফলে মোবাইল ব্যবহারকারীরা আরো বেশি সুবিধা পেতে শুরু করল তারা বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে মোবাইলকে ব্যবহার করা শুরু করে। তারা যেকোন সময় হাতের নাগালেই বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে মোবাইলকে ব্যবহার করা শুরু করে।

তখন ইন্টারনেট ব্যবহারের সুবিধা শুধুমাত্র কম্পিউটারের মাধ্যমে পাওয়া যেত। কিন্তু এই ইন্টারনেট কে তারা মোবাইলে ব্যবহার করলাম সুবিধা ও যোগ করে। ফলে সাধারণ মানুষ ও ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ পায়। এবং যে কোন স্থানে বসে ইন্টারনেট ব্যবহার করার সুবিধা ভোগ করতে শুরু করে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীরা।

বিভিন্ন দৃষ্টিনন্দন মডেলের মোবাইল ফোন তৈরি করা শুরু করে মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলো। কারণ ইতিমধ্যে বেশ অনেক কোম্পানি মোবাইল ফোন তৈরি করা শুরু করেছে এবং তারা বাজারজাত করা শুরু করেছেন। যার ফলে মোবাইল ফোন শিল্পে আসে প্রতিযোগিতার ছোয়া।প্রথম দিকে হাতেগোনা কয়েকটি কোম্পানি মোবাইল ফোন তৈরি করলেও বর্তমানে হাজার হাজার কোম্পানির মোবাইল ফোন তৈরি করছে।এর ফলে আপনারা বুঝতে পারছেন মোবাইল ফোন বাজারজাত করণ এবং গ্রাহক বৃদ্ধি  জন্য কতটা প্রতিযোগিতা করতে হচ্ছে কোম্পানি গুলোকে।তাই তারা গ্রাহকের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য কোম্পানি গুলো তৎপরতা শুরু করে কোম্পানি গুলো।

এরই ধারাবাহিতায় তারা গ্রাহকদের চাহিদা মাথায় থেকেই তৈরি করে টাচ স্ক্রিন ফোন।যেটিতে ব্যাবহারকারীর বাটন টিপে কাজ করতে হবে না।এখন হাতের স্পর্শে চলতে শুরু করে মোবাইল গুলি।যা ব্যাপক সাড়া ফেলে দেয় এবং টাচ স্ক্রিন ব্যবহারকারীর সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বাড়তে শুরু করে।

স্মার্ট ফোন

এতকিছু পরেও ক্ষান্ত হয়নি মোবাইল ফোন নির্মাতা। তারা নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে গিয়েছে মোবাইল ফোনের উন্নতি সাধনের জন্য। এবং সেই চিন্তাই মাথায় রেখে ভাবতে শুরু করে মোবাইল ফোনের অপারেটিং সিস্টেম এর উন্নতি সাধন করার কথা। যার ফলে তারা আবিস্কার করে সিমবিয়ান অপারেটিং সিস্টেমের। এটি হচ্ছে স্মার্ট  ফোনের সর্বপ্রথম অপারেটিং সিস্টেম। পরবর্তীতে তৈরি হয় অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম। যা আলোড়ন সৃষ্টি করে। এবং মোবাইল ফোনকে একটি মিনি কম্পিউটার হিসেবে রুপ দেয়। বর্তমানে স্মার্ট ফোন ব্যবহারকারীর মধ্যে ৭০% + ব্যবহারকারী অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করে।

(Visited 7 times, 1 visits today)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *