মোবাইল ব্যাংকিংয়ে নিরাপদ থাকবেন যেভাবে

বাংলাদেশের বর্তমানে অন্যান্য ব্যাংকিং সুবিধা যেমন ডেবিট কার্ড ক্রেডিট কার্ড এবং মাস্টার্ড কার্ড চালু  থাকলেও আমাদের দেশে যথেষ্ট পরিমাণ এটিএম বুথ না থাকায় এবং আমাদের দেশের মানুষ এ বিষয়ে যথেষ্ট জ্ঞান সম্পন্ন না হওয়ার কারণে  এগুলো তোমন জনপ্রিয় নয়। বর্তমানে মোবাইল ব্যাংকিং গুলো অনেক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এবং প্রতিনিয়ত একদিকে যেমন এর গ্রাহক সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। অন্যদিকে লেনদেনের পরিমাণ ও ব্যাপক পরিমাণে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর অন্যতম কারণ হলো মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে মুহূর্তের ভিতর দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে টাকা পাঠানো যায়। সারাদেশে এর লেনদেন করার ক্ষেত্রে অনেক সুবিধা রয়েছে। শহরে ছাড়াও গ্রামের  একদম অনুন্নত অঞ্চলেও মোবাইল ব্যাংকিং গুলো তাদের সুবিধা পৌঁছে দিচ্ছে বলে এর ব্যবহার শহর এবং গ্রাম উভয় পড়েছে বিস্তৃত হয়েছে। যে কোন  কারণে দ্রুত টাকা পাঠানোর এখন একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে মোবাইল ব্যাংকিং আপনি কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে টাকা পাঠাতে পারবেন এবং তা ক্যাশ করতে পারবেন।

এছাড়া গ্রামের অনেক লোক জীবিকা নির্বাহের জন্য শহরে কাজ করে। কিন্তু তার পরিবার-পরিজন গ্রামেই থাকে। আর তারা তাদের পরিবার-পরিজনের কাছে টাকা পাঠানোর জন্য এখন বেছে নিয়েছে মোবাইল ব্যাংকিং সুবিধা কে। এছাড়া বর্তমানে মোবাইল ব্যাংকিং গুলোর মাধ্যমে বিদেশ থেকে রেমিটেন্স এর টাকা ও দেশে পাঠানো যায়। আমাদের দেশে বেশ কয়েকটি ব্যাংক এই মোবাইল ব্যাংকিং চালু করেছে। যেমন-ব্র্যাক ব্যাংকের বিকাশ, ইসলামী ব্যাংকের এম ক্যাশ, ডাচ বাংলা ব্যাংকের ডিবিবিএল বা  রকেট এছাড়াও বিভিন্ন ব্যাংক মোবাইল ব্যাংকিং সুবিধা চালু করেছে। বাংলাদেশ ডাক বিভাগের রয়েছে নগদ মোবাইল ব্যাংকিং সুবিধা আপনি এর মাধ্যমে  দেশের যেকোনো স্থান থেকে টাকা লেনদেন করতে পারবেন।

এছাড়া বিশেষ কিছু মুহূর্ত যেমন ঈদ, কোরবানি এবং পূজা এই সকল উৎসবের সময় মোবাইল ব্যাংকিং লেনদেনের পরিমাণ অনেকাংশে বেড়ে যায়। ওদেরকে দেখে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের প্রতিদিন নতুন গ্রাহক যোগ হচ্ছে। এদের সাথে লেনদেন ও আগের তুলনায় নিয়মিত হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

মোবাইল ব্যাংকিং একদিকে যেমন আমাদের অর্থ স্থানান্তর এর জন্য ব্যাপক সুবিধা তৈরি করেছে। তেমনি এর কিছু ঝুঁকিপূর্ণ  দিক রয়েছে। একটু অসাবধানতা আমার সাথে ঘটে যেতে পারে অনেক বড় আর্থিক ক্ষতি। তাই আমাদের এই সকল সেবা ব্যবহারের ক্ষেত্রে অনেক সচেতন হতে হবে। যে সকল বিষয়ে সচেতন হওয়া আমাদের জরুরী তা নিম্নরূপ-

bdtip

সর্বপ্রথম আপনাকে একটি শক্ত পিন সেট করতে হবে। যা সচরাচর কেউ ব্যবহার করে না। এবং এক ধরনের কতগুলো সংখ্যা দিয়ে পিন কোড সেট করা যাবে না। উল্টো পাল্টা শব্দের মাধ্যমে পিন কোড সেট করতে হবে। যাতে করে কেউ খুব সহজে আপনার পিন কোড জেনে যেতে না পারে। আপনার ব্যক্তিগত পিনকোড  কারো সাথে শেয়ার করবেন না।। এবং  আপনার অন্যান্য অ্যাকাউন্টে সাথে জন্যই মোবাইল ব্যাংক একাউন্টের পিন কোড এর কোন মিল না থাকে সে বিষয়ে খেয়াল রাখুন। কারন আপনার অন্যান্য একাউন্ট হ্যাক হলে বা কোন কারনে এর পাসওয়ার্ড জানলেও আপনার মোবাইল ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত থাকবে। এবং নিয়মিত পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করুন। কিছুদিন পর পর আপনার একাউন্টের পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করুন। এর ফলে আপনার একাউন্টে সুরক্ষিত থাকবে।

এবং কাস্টমার কেয়ার থেকে কেউ কল করে, আপনাকে যদি আপনার অ্যাকাউন্টের কোন তথ্য জানাতে বলে। তাহলে আপনি আপনার কোনো ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়ার আগে অবশ্যই যাচাই করে  নিবেন যে কল  টি সত্যিকার অর্থে কাস্টমার কেয়ার থেকে করেছে কিনা। অন্যথায় আপনার কোনো ব্যক্তিগত তথ্য তাকে দিবেন না।

কোন প্রকার লটারি বা লোভের ফাঁদে করবেন না। কারণ অনেক প্রতারক চক্র আছে যারা লটারি সহ বিভিন্ন লোভ দেখিয়ে আপনার সর্বনাশ করতে পারে। তাই এখনো সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলুন কারণ কম্পানি কোন লটারি বা অফার এর আয়োজন করলে তা সর্ব প্রথম অফিসিয়ালি সকল গ্রাহকের জানিয়ে তারপর শুরু করে। যদি কেউ হুট করে আপনাকে এ সকল অফার বা লটারির কথা বলে। তাহলে তাকে এড়িয়ে যান।

এই সকল সতর্কতামূলক  কাজই পারে আপনার মোবাইল ব্যাংকিং কে নিরাপদ রাখতে।

Similar Posts:

(Visited 11 times, 1 visits today)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *