সমুদ্রের এক রহস্যময় স্থান বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল

বারমুডা ট্রাইংগেল হচ্ছে সমুদ্রের  একটি রহস্যময় জায়গা। এটি ডেভিল সী নামেও পরিচিত। এটি আটলান্টিক মহাসাগরের বিশেষ একটি এলাকা। বলা হয় এখানে নাকি রহস্যজনকভাবে অনেক জাহাজ এবং উড়োজাহাজ নিখোঁজ হয়েছে। যার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। আর এজন্যই একে ডেভিল সী বা শয়তানের আস্তানা বলা হয়।

অনেকে মনে করে এখানে এই সকল দুর্ঘটনার পেছনে রয়েছে ভিনগ্রহী কোন প্রাণের উপস্থিতি অথবা অতিপ্রাকৃতিক কোন  শক্তি।

আবার অনেকে মনে করে এটি নিছকই দুর্ঘটনা প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং নাবিকের অসাবধানতাবশত ঘটে। তবে বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলের বিষয়ে অনেকেই অনেক ভাবে লিখেছেন।কিন্তু সর্বপ্রথম ক্রিস্টোফার কলম্বাস অদ্ভুত ত্রিভুজের কথা বর্ণনা করেন। তিনি আরো বলেন এখানে কম্পাসের ভুল দিক নির্দেশনা । তার নাবিকেরা এই অঞ্চলের আকাশে আলোর নাচানাচি এবং ধোয়া দেখতে পায়।

আমেরিকান লিজান নামক ম্যাগাজিনে ১৯৬২ সালের এপ্রিল মাসে ফ্লাইট নাইনটিন নিয়ে লেখা হয়। এখানে বলা হয় এই ফ্লাইটের দলপতি কে নাকি বলতে শোনা গিয়েছিল, আমরা কোথায় আছে জানিনা, সবুজ বর্ণের জল,কোথায় সাদা কিছু দেখছি না! আর এই কারণে ফ্লাইট নাইনটিন এই বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলের অতি প্রাকৃতিক ঘটনার সাথে যুক্ত করা হয়েছিল।

এই ঘটনার উপর ভিত্তি করে “প্রাণঘাতী বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল” নতুন কাহিনী লিখেন ভিনসেন্ট গডিস। এবং ১৯৬৪ সালে “ইনভিজিবল হরাইজন” নামে বই লেখা হয়।  যেখানে এর বিস্তৃত বর্ণনা দেয়া হয়। এবং এর পরে অনেক লেখক এ নিয়ে আরো অনেক বই লিখেছেন।

এছাড়া বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলটির ভেতর কিছু স্থল ভাগ রয়েছে। এগুলো হলো পোর্তো রিকো,বাহামা এবং বারমুডাও রয়েছে এর ভিতর। কিন্তু এখানে কোন স্থল যানের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা শোনা যায়নি। ফ্রিপোর্ট শহরটিতে রয়েছে জাহাজ তৈরির কারখানা এবং বিমানবন্দর। এই বিমানবন্দরটি কোন প্রকার সমস্যা ছাড়াই ৫০,০০০ টির বেশি বিমান ফ্লাইট পরিচালনা করেছেন। কিন্তু এটিও বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলের ভিতরেই অবস্থিত।

কুসচ এর বর্ণনায় পাওয়া যায়- বিভিন্ন বইতে লেখা যতগুলো ঘটনার কথা বর্ণনা করা হয়েছে তিনি সে সময় এর সংবাদপত্রে যে আবহাওয়া তথ্য পান তা কোন লেখকি তাদের বইতে উল্লেখ করেনি। এছাড়াও তার গবেষণায় পাওয়া যায়, অন্যান্য সমুদ্রে যে পরিমাণ জাহাজ বা উড়োজাহাজ দুর্ঘটনার কবলে পড়ে বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলে তার অনুপাত বেশি নয়। এছাড়াও এই অঞ্চলে জাহাজ বা উড়োজাহাজ নিখোঁজ হওয়ার অন্যতম কারণ হলো এখানে গ্রীষ্মমন্ডলীয় ঝড় বেশি আঘাত হানে। কিন্তু লেখকেরা এসব অধিকাংশই এড়িয়ে গিয়েছেন। এছাড়া ফ্লোরিডার ডেটোনো  সমুদ্র তীরের একটি বিমান দুর্ঘটনার কথা বলা হয়েছিল। যা সেই সময়কার কোন সংবাদপত্রে পাওয়া যায়নি। লেখকরা এমন কিছু ঘটনা ও এর ভিতর উল্লেখ করেছে যা কখনো ঘটেনি।

এর থেকে সুস্পষ্ট ভাবে বোঝা যায় যে এখানে লেখক তার মনের মাধুরী মিশিয়ে লিখেছেন। কারণ এসব বিষয় নিয়ে টিভিশো বা বই লিখলে প্রচুর পরিমাণ অর্থ উপার্জন করা সম্ভব।

এছাড়া বাতাসের বুদবুদ পানির ঘনত্ব কমিয়ে দেয় যার ফলে কোন কিছুকে ভাসিয়ে রাখার ক্ষমতা পানির কমে যায়। এটি ঘটে থাকে পানিতে অনবরত মিথেন উদগীরণ হওয়ার কারণে। এরকম অবস্থায় পড়লে যে কোনো জাহাজ খুব সহজেই পানিতে ডুবে যেতে পারে।

এ থেকে সুস্পষ্ট এটাই প্রমাণিত হয় যে বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল রহস্য যতটানা রহস্যজনক তার চেয়ে এটি সাজান ঘটনার সংখ্যা বেশি।

Similar Posts:

    None Found

(Visited 19 times, 1 visits today)

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *