স্মৃতিশক্তি সবল রাখতে আমাদের করনীয়

আমাদের মাঝে অনেকে আছে যাদের স্মৃতিশক্তি প্রখর আবার অনেকে আছে তাদের স্মৃতিশক্তি অনেকটা দুর্বল। যাদের স্মৃতিশক্তি দুর্বল তারা কোন বিষয়ে মনে রাখতে পারেন না বেশি সময়। আবার তারা কোন বিষয়ে চিন্তা করতে অনেক সময় লাগিয়ে দেয়।এবং সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে তারা অনেক সময় ব্যায় করে ফেলে।আবার অনেকে আছেন যারা চিন্তা করতে করতে চিন্তার বিষয় বস্তুই ভুলে যান যে সেই এই মুহুর্তে কি বিষয় চিন্তা করছিলেন। এ নিয়ে আমরা অনেক চিন্তিত হয়ে পড়ি। তাই আজ আমরা জানবো স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়ার কারণ এবং কিভাবে স্মৃতি শক্তি বৃদ্ধি করা যায়।

স্মৃতি শক্তি কমে যাওয়ার কারনঃ

স্মৃতিশক্তি আমাদের বিভিন্ন কারণে কমে যেতে পারে তার মধ্যে  কয়েকটি উল্লেখযোগ্য কারণ হচ্ছে। পুষ্টির চাহিদার কারণে স্মৃতিশক্তি কমতে পারে।অনেক পুষ্টি উপাদান আছে যা আমাদের স্মৃতি শক্তি বৃদ্ধি করতে সহয়তা করে।সে সকল   খাদ্য উপাদান এবং  ভিটামিনের অভাবে আমাদের স্মৃতিশক্তি কমে যেতে পারে।

স্মৃতিশক্তি লোপ পাওয়ার রোগ আলঝেইমার এর কারণে ও স্মৃতিশক্তি লোপ পায়। তবে এটি সবার ক্ষেত্রে দেখা যায় না। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে প্রবীনদের এ রোগটি দেখা যায় যাদের বয়স ৬০ বছরের উপরে। এবং বয়স যত বাড়তে থাকে এ রোগের ঝুঁকিও ততই বাড়তে থাকে। তবে কম বয়সী লোকদের ক্ষেত্রে এ রোগের প্রভাব দেখা যায় না।

পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমের অভাবে ও স্মৃতিশক্তি লোপ পায়। আমাদের মস্তিষ্ক সব সময় কাজ করতে থাকে। তাই আমাদের মস্তিষ্কের ক্লান্তি দূর করতে বিশ্রামের প্রয়োজন আর সে  বিশ্রাম আসে ঘুম থেকে। যারা পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমায় না তাদের স্মৃতিশক্তি লোপ পেতে পারে।

দীর্ঘদিন একাকীত্ব এবং উদাসীনতার কারণে স্মৃতিশক্তি লোপ পায়। একাকীত্ব এবং  উদাসীনতার জন্য আমাদের মানসিক অবস্থার ভেঙে পড়ে আর যার ফলশ্রুতিতে আমাদের ব্রেইনে চাপ পরে। এবং স্মৃতিশক্তি কমে যায়।উচ্চ রক্তচাপের কারণে ও স্মৃতিশক্তি কমে যেতে পারে এছাড়া দূষিত পরিবেশে বসবাস করার কারণেও স্মৃতিশক্তি লোপ পায়।

স্মৃতিশক্তি লোপ পাওয়া থেকে রেহাই পেতে এবং স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতে আমাদের করণীয়-

স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধির ক্ষেত্রে কোন কার্যকরী চিকিৎসা ব্যবস্থা না থাকলেও আমাদের সচেতনতা এবং কিছু অভ্যাস আমাদের স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করতে পারে। আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যাভাসে পুষ্টিকর খাদ্য এবং ভিটামিন সমৃদ্ধ খাদ্যের ঠিকমতো যোগান রাখা। কারণ ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার আমাদের স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে এবং স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়ায় বাধা প্রদান করে। পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুম আমাদের শরীরের জন্য যে রকম প্রয়োজনীয় তেমনি আমাদের স্মৃতি শক্তির ক্ষেত্রেও একই। তাই নিয়মিত এবং নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী আমাদের ঘুমানো উচিত এর ফলে আমাদের শারীরিক এবং স্মৃতিশক্তি জনিত উন্নতি হবে। এছাড়াও গবেষণায় দেখা গিয়েছে দিনের বেলায় সামান্য ঘুমালে স্মৃতি শক্তির ক্ষেত্রে অনেক উপকার হয় এবং আমাদের স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পায়।

ব্যায়াম করার ফলে আমাদের স্মৃতি শক্তি হ্রাস পাওয়া কমে। তাই আমাদের নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে। স্বাস্থ্যকর পরিবেশে বাস করতে হবে। এবং মানসিক অবস্থা সব সময় উৎফুল্ল রাখতে হবে। এবং দুশ্চিন্তা থেকে মুক্ত থাকার চেষ্টা করতে হবে। কারণ দুশ্চিন্তা করার ফলে আমাদের ব্রেইনে প্রচন্ড পরিমানে পেশার  পড়ে এবং যার ফলশ্রুতিতে আমাদের স্মৃতিশক্তি কমতে শুরু করে।

এসকল বিষয় মেনে চললে আমাদের স্মৃতিশক্তি হ্রাস পাওয়া কমবে এবং স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পাবে।

Similar Posts:

    None Found

(Visited 72 times, 1 visits today)

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *