অতিরিক্ত ফেইসবুক ব্যাবহারের কুফল ও কিছু টিপস

সোশ্যাল মিডিয়া জগতে ফেসবুক হচ্ছে সবচাইতে বড় এবং জনপ্রিয় একটি মাধ্যম। এবং এর ব্যবহারকারীর সংখ্যাও প্রচুর। সারা বিশ্বে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা দিন দিন বেড়ে চলছে। বর্তমানে আমাদের দেশে যুব সমাজ ফেসবুকের প্রতি খুব বেশি আসক্ত হয়ে পড়ছে। অনেকে অনেক রাত যেগে  ফেসবুক ব্যবহার করে। যেটি মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর। তাই আমাদের উচিত সকলের ফেসবুক ব্যবহারের প্রতি একটি শৃঙ্খলা আনা। কারণ অতিরিক্ত ফেসবুক ব্যবহারের ফলে মানুষের মাঝে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। কারণ মোবাইলের স্ক্রিনে বেশি সময় তাকিয়ে থাকলে চোখের সমস্যা দেখা দেয়। এটি যে কেবলমাত্র ফেসবুক ব্যবহারের ক্ষেত্রে তা নয়। মোবাইল অপ্রয়োজনে বেশি ব্যবহার করলে সমস্যা হতে পারে।

কিছুদিন আগে মিরা (ছদ্মনাম) নামক ভারতের এক কলেজ শিক্ষার্থীকে এই ফেসবুকের আসক্তি থেকে মুক্তি পেতে কাউন্সিলিং নিতে হয়েছিল। সে বলেছিল ফেসবুকের প্রতি তার কাছেই আসক্তি তৈরি হয়েছিল। যে সে প্রতি ১০ মিনিট অন্তর অন্তর ফেসবুকে প্রবেশ করত। এবং কোন স্ট্যাটাস দেওয়ার মত না থাকলে এবং বন্ধু-বান্ধবের সাথে চ্যাটিং করার সুযোগ না থাকলে সে একনাগাড়ে তার টাইমলাইন পোস্ট গুলো পড়তে শুরু করত। এবং এই আসক্তির কারণে তার লেখাপড়া ও ঠিকভাবে চলছিল না।

তাই আমাদের ফেসবুক ব্যবহারে শৃঙ্খলা আনা একান্ত আবশ্যক। তা না হলে এটি আমাদের বড় কোন ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। এছাড়া বর্তমানে ফেসবুক হ্যাকিং একটি ভাবনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। হ্যাকাররা কোন ব্যক্তির ব্যক্তিগত তথ্য পাওয়ার জন্য এখন ফেসবুকে প্রথম টার্গেট করছে। কারণ বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়া গুলোর ভিতরে ফেসবুকে মানুষের বেশি পরিমাণ তথ্য থাকে। তাই ফেসবুক আমাদের সতর্কতার সহিত চালানো উচিত।

এর বাইরে ফেসবুক চালানোর কিছু বিষয় মাথায় রাখা আমাদের একান্ত জরুরী, যেমন কারো টাইমলাইনে পোষ্ট করা ট্যাগ করা এগুলো খুব মজাদার একটি বিষয়। কিন্তু অপরিচিত লোকজনদের একনাগাড়ে বন্ধু তালিকায় যুক্ত করলে এটি আপনার সমস্যার কারণ হতে পারে। কারণ তারা আপনার কাছের কেউ নয় তাই বিভিন্ন কারণে তারা আপনার সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। যেমন অপ্রয়োজনীয় চ্যাটিং করার মাধ্যমে আপনার বিরক্তির কারণ হতে পারে। একারণে আপনার পরিচিত ব্যক্তিদের খুঁজে পেতে বা তাদের সাথে যোগাযোগ করতে সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। কখন আপনার ফেসবুক আইডি ভেরিফিকেশন আর সম্মুখিন হলে  আপনি  অতিরিক্ত বন্ধ করার কারণে আপনার  ভেরিফিকেশনে সমস্যা হতে পারে। কারণ  যদি আপনার আইডিটি ফটো ফটো ভেরিফিকেশন দেখা দেয় তাহলে আপনি  তাদের সাথে ব্যক্তিগতভাবে পরিচিত না হওয়ার কারণে আপনার ফটো পরিবেশন ব্যাহত হতে পারে। এছাড়া তারা আপনার টাইমলাইনে বিভিন্ন ধরনের পোস্ট করতে পারে এবং অন্য কিছু শেয়ার করতে পারে। যেগুলো আপনার অপছন্দের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই টাইমলাইনে পোষ্ট করা বা ট্যাগ করার আপনি চাইলে বন্ধ করে রাখতে পারেন। এতে করে যে কোন আপনাকে ট্যাগ করতে পারবে না এবং আপনার টাইমলাইনে পোষ্ট করতে পারবে না।

সর্বোপরি বলতে চাই যে সকল জিনিস এর ভালো দিক রয়েছে, তার মন্দ দিকের সংখ্যাও কম নয়। তাই আমাদের সকলের উচিত যে কোন বিষয়ে ভালো-মন্দ দুটি দিক বিবেচনা করা। তাহলে আমরা বিভিন্ন ধরনের সমস্যা থাকে দূরে থাকতে পারব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *