অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যাবহারে রয়েছে স্বাস্থ্য ঝুকি

স্মার্ট  ফোন রয়েছে প্রতিটি মানুষের হাতে হাতে।বর্তমান সময়ে প্রাপ্তবয়স্ক দের পাশাপাশি ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের হাতে রয়েছে স্মার্ট ফোন। এবং তারা সারাদিন মোবাইল ফোনে ফেসবুক,গেম,ইন্টারনেট ব্রাইজিং এই সকল নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। অনেকে সারাদিন ব্যস্ত থাকে এর উপরে।অন্যান্য কাজের কথা তারা ভুলে যায়। তবে অনেক সময় এভাবে মোবাইল ফোন ব্যবহারের ফলে বাড়ছে স্বাস্থ ঝুকি।সারাদিন এভাবে মোবাইল ফোন ব্যবহারের ফলে তারা বাস্তব জিবন হতে ভার্চুয়াল জগতের মধ্যে ডুবে যাচ্ছে।ছোট বাচ্চারাও এর থেকে দুরে নয়।আগেকার সময়ে বাচ্চারা খেলাধুলা করার প্রতি খু্বই আগ্রহী ছিল।খেলাধুলা বাচ্চাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।কিন্ত বর্তমানে বাচ্চার খেলাধুলার প্রতি অগ্রহ নষ্ট করে ফেলেছে স্মার্ট ফোন।তারা এখন ভিডিও গেম নিয়েই ব্যস্ত থাকে।

এখন মানুষ বন্ধু বান্ধবের সাথে আড্ডা মারার সময় ও পাশের বন্ধুদের সাথে সময় দেওয়ার চেয়ে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করে ফেলি মোবাইল ফোনের সাথে।

আসুন মোবাইল ফোন অতিরিক্ত ব্যবহার  করার কয়েকটি কুফল সম্পর্কে জেনে নেই –

চোখের সমস্যা -আমরা অনেকেই আছি দিনের পাঁচ ছয় ঘন্টার উপরে মোবাইল ব্যবহার করে এবং একনাগাড়ে মোবাইলের ডিসপ্লে দিকে তাকিয়ে থাকি যা আমাদের চোখের মারাত্মক ক্ষতি সাধন করে।মোবাইলের ডিসপ্লের থেকে নির্গত হওয়া ক্ষতিকর আলোকরশ্মি আমাদের চোখের ক্ষতি করে থাকে যার ফলে দীর্ঘমেয়াদী চোখের সমস্যা দেখা দিতে পারে।এবং দূরের জিনিস দেখার সমস্যা হতে পারে।

আমরা অনেকেই আছি রাস্তা চলাচলের সময় মোবাইল ফোনের থেকে বেশি খেয়াল দেই।এর ফলে মুহূর্তের ভিতর ঘটে যেতে পারে মারাত্মক কোন দুর্ঘটনা। তাই রাস্তাঘাটে মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে।

মাথা নিচু করে মোবাইলের ডিসপ্লের দিকে তাকিয়ে থাকার কারণে হতে পারে ঘাড়ের ব্যথা। যা অনেকদিন একই ভাবে চলতে থাকলে মারাত্মক সমস্যা হয়ে দাঁড়াতে পারে। মাথা নিচু করে একবার মোবাইলের ডিসপ্লের দিকে তাকিয়ে থাকলে আমাদের মেরুদন্ডের উপরে চাপ পড়ে। কারণ একটি মানুষের মাথার ওজন কিন্তু কম নয়। যখন আমাদের ঘাড় সোজা থাকে তখন স্বাভাবিক থাকলেও।যখন ঘাড় নিচু করে মোবাইলের দিকে তাকিয়ে থাকি তখন আমাদের ঘাড়ে চাপ পড়ে। এবং ঘাড়ে ব্যথা হয়।

অনেক সময় ধরে বার্তা বা টাইপিং এর জন্য আঙুলের জয়েন্টে ব্যথা হতে পারে। যা পপরবর্তীতে আর্থরাইটিসের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ কেন অতিরিক্ত সময় ধরে বাড়িতে আপা মেসেজ টাইপিং থেকে বিরত থাকার।

যারা হেডফোন কানে দিয়ে অতিরিক্ত সাউন্ড দিয়ে গান শুনে তাদের কানে সমস্যা দেখা দিতে পারে এবং বধির হওয়ার ঝুকি থাকে।তাই হেড ফোনে অতিরিক্ত সাউন্ড ব্যবহার করে গান শোনা উচিত নয়।

গবেষকরা জানায় মোবাইল ফোন থেকে হাই ফ্রিকোয়েন্সির ইলেকট্রো-ম্যাগনেটিক রেডিয়েশন নির্গত হয়।এই রেডিয়েশন মস্তিষ্কের ক্যান্সারের কারণ হতে পারে। এছাড়া শরিরের বিভিন্ন কোষের ক্ষতির পাশা পাশি পুরুষের শুক্রাণু তৈরির উপর প্রভাব ফেলে।যার কারনে কমে যেতে পারে শুক্রাণুর ঘনত্ব।

উপরোক্ত ক্ষতির থেকে বাঁচতে হলে আমাদের অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে।এবং আমাদের বাচ্চাদের মোবাইল ফোন ব্যবহার থেকে বিরত রাখতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *