ওয়েব সাইটের বাউন্স রেট কমানোর কার্যকরী ৫টি টিপস

সাইটের বাউন্স রেট হচ্ছে একটি সাইটে ভিজিটর এসে কত সময় অপেক্ষা করে তার একটি পরিসংখ্যান। আপনার সাইটের বাউন্স রেট এর উপর নির্ভর করে আপনার সাইটটির কতটুকু জনপ্রিয়তা রয়েছে। কারণ আপনার সাইটের জনপ্রিয়তা নির্ভর করে আপনার সাইটের কনটেন্টের উপর এবং আপনার সাইটের কনটেন্ট ভালো হলে আপনার সাইটের ভিজিটর বৃদ্ধি পাবে এবং ভিজিটর এসে আপনার সাইটের কনটেন্ট পরবে। কিন্তু আপনার সাইটের কনটেন্ট যদি ভালো না হয় ভিজিটর এসে প্রথমে আপনার থেকে কনটেন্ট দেখে বিরক্তি বোধ করলে বা অনুৎসাহিত হলে আপনার সাইট থেকে বেরিয়ে যাবে।

website Bounce rate

সাইটের বাউন্স রেট কমিয়ে আনার অনেক পন্থা রয়েছে। মনে করুন আপনি কোন একটি আর্টিকেল খুঁজছেন। আপনি গুগল এ সার্চ করলেন এবং সেই রিলেটেড অনেক আর্টিকেল পেলেন। আপনি কি করবেন যে আর্টিকেলের হেডলাইন অনেক সুন্দর ভাবে লেখা। এবং আপনার যে আর্টিকেলটি পছন্দ হবে আপনি সেই আর্টিকেলের লিংকে প্রবেশ করবেন। সেই লিংকে ক্লিক করার মাধ্যমে আপনাকে নিয়ে যাওয়া হবে মেইন সাইট এবং আপনাকে আর্টিকেল টি শো করা হবে। আপনি আর্টিকেলটি পড়া শুরু করলেন। দেখা গেল আপনি যে বিষয়ে খুঁজছেন সে বিষয়ে আর্টিকেলটিতে কিছুই নেই। শুধুই অবাঞ্চিত কথায় ভরপুর। তখন আপনি কি করবেন? নিশ্চয়ই বিরক্ত হয়ে সরাসরি সাইটটি থেকে বেরিয়ে যাবেন।

এখন আপনি যদি এক সাইটের মালিক হন তাহলে আপনার সাইটের ব্যাপারে সমস্ত সমস্যা করতে পারে। কারণ সাইটের ভিজিটর এই হচ্ছে প্রান। আর ভিজিটর ধরে রাখার জন্যই আপনি নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করে থাকেন।সাইটের ভিজিটর ধরে রাখতে এবং বাংলা সিলেট কমাতে যে সকল বিষয়ের উপর আমাদের লক্ষ্য দেওয়া উচিত সেগুলো আসুন আলোচনা করা যাক।

সাইটের ভিজিটর ধরে রাখতে যে সকল বিষয়ের উপর গুরুত্ব প্রদান করতে হবে তা হল।

Bounce rate chart of different website

১=সাইটের ডিজাইন –
সাইটের ভিজিটর ধরে রাখতে সাইটের ডিজাইন একটি মুখ্য ভূমিকা পালন করে। কারণ সাইটের ডিজাইন যত সুন্দর এবং ভিজিটর বান্ধব হবে আপনার সাইটে ভিজিটর আসতে ততই আগ্রহী হবে। এর জন্য সাইটটি সুন্দর ভাবে সাজিয়ে তুলুন। তবে কখনোই অবাঞ্ছিত গেজেট যুক্ত করবেন না। যেগুলো কোন কাজের নয়। পপআপ গ্যাজেট যুক্ত করা পরিহার করুন। আমরা ফেসবুক পেজের লাইক বৃদ্ধি এবং সাবস্ক্রাইবার বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন বিভিন্ন পপ-আপ উইজেট ব্যবহার করে থাকি। মনে করুন কোন ভিজিটর একটি পোস্ট পরতেছে মনোযোগ সহকারে। তখন যদি এই পপআপ বারবার আসতে থাকে তাহলে ভিজিটর বিরক্তি বোধ করবে। এক্ষেত্রে আপনার সাবস্ক্রাইবার বৃদ্ধির বদলে আপনার সাইটে ভিজিটর হারাবে।

২=লোডিং টাইম
ভিজিটর ধরে রাখতে সাইটের লোডিং টাইম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। এক্ষেত্রে সাইটের লোডিং টাইম কমিয়ে আনার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। কারণ একটি সাইটের ভিজিটর আসে সার্চ ইঞ্জিন থেকে এবং সাইটের লোডিং টাইম যদি স্লো হয় সেক্ষেত্রে আপনার সাইটকে স্যার সেন্সিং পিছে ফেলে দেবে এবং ভিজিটর যখন দেখবে আপনার সাইটের কোন কনটেন্ট লোড হতে অনেক সময় নিচ্ছে তখন ভিজিটর ও চলে যাবে আপনার সাইট থেকে। এটিও বাউন্স রেট বৃদ্ধির অন্যতম একটি কারণ।

Bounce rate impact

৩= মানসম্মত কন্টেন্ট-
সাইটে ভিজিটর ধরে রাখার অন্যতম উপায় হচ্ছে মানসম্মত কনটেন্ট। কারণ আপনার কনটেন্ট যদি মানসম্মত না হয় তাহলে ভিজিটর আপনার কনটেন্ট পড়ার প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করবে না। তাই যথাসম্ভব মানসম্মত কন্টেন্ট করার চেষ্টা করুন। এবং রিলেটেড পোস্ট গ্যাজেট যুক্ত করুন। এক্ষেত্রে একই ধরনের অন্যান্য পোস্ট থাকলে তাহলে সেগুলো ভিজিটরের সামনে চলে আসবে এবং ভিজিটর এই ধরনের পোস্ট করার কারণে ঐ সকল পোষ্ট পড়তে আগ্রহ প্রকাশ করবে। এবং আপনি আপনার সাইটে ভিজিটরকে অনেকক্ষণ ধরে রাখতে সক্ষম হবেন।

৪= অতিরিক্ত মাত্রায় বিজ্ঞাপন প্রদর্শন না করা-
একটি সাইট থেকে আয় করার অন্যতম একটি উৎস হচ্ছে বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করা। আর এই বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের মাধ্যমে আয় বৃদ্ধি করার জন্য আমরা সাইটের বিভিন্ন স্থানে বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করে থাকি এবং পোস্টের মাঝে বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের ব্যবস্থা করি। তবে এক্ষেত্রে আমাদের সতর্ক হওয়া অত্যন্ত জরুরি একটি বিষয়। পোষ্টের মধ্যে অতিরিক্ত পরিমাণে বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করা উচিত নয়। সর্বোচ্চ দুই থেকে তিনটি বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করুন। মিনিমাম একশো ওয়ার্ড পরপর একটি বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করেন।

৫=সাইটম্যাপ যুক্ত করুন-
ওয়েব সাইটের সাইটম্যাপ হচ্ছে এমন একটি গ্যাজেট যার মাধ্যমে একজন পাঠক আপনার সাইট সম্পর্কে সম্পূর্ণ ধারণা লাভ করতে পারে। আপনার সাইটের জন্য একটি সাইট ম্যাপ পেজ তৈরি করুন। এরপর আপনার সাইটের ভিজিটর আপনার সাইট সম্পর্কে একটি ধারণা লাভ করতে পারবে।

উপরোক্ত এই পাঁচটি বিষয়ের উপর লক্ষ্য দিলে আপনার সাইটের বাউন্স রেট কমে আসবে এবং ভিজিটর বৃদ্ধি পাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *