কম বাজেটের দারুন একটি ফোন Huawei Y6 Pro

শীর্ষস্থানীয় চায়না স্মার্টফোন নির্মাতা ব্র্যান্ড হুয়াওয়ে ইদানিং কম দামে ফ্লাগশিপ ফোন বাজারে এনে আলোচনায়! আর এরই ধারাবাহিকতায় বাজারে নিয়ে এসেছে সাশ্রয়ী মূল্যের ভেতর দারুন একটি ফোন। হুয়াওয়ে ওয়াই৬ প্রো ফোনটির ফ্ল্যাগশিপ উন্মোচিত হয়েছে কিছুদিন হলো। বলা যায় কম বাজেটের মধ্যে খুবই চমৎকার একটি ফোন এটি। তাহলে আজকের এই রিভিউ থেকে জেনে নেয়া যাক ফোনটি সম্পর্কে-

ক্রেতারা সবসময়ই ফোন কেনার আগে যে কোন বাজেটের ফোনই কিনুক না কেন তারা সর্বপ্রথম দেখে ফোনটি দেখতে কতটা সুন্দর মানানসই এবং হাতে নিয়ে ব্যবহার করতে কতটা আরামদায়ক। আমি বলব এদিক দিয়ে ফোনটি একদমই পারফেক্ট। এরপরে  এর অন্যান্য দিক গুলি আমরা জানব, ফোনটিতে ব্যবহার করা হয়েছে ৬.৯ ইঞ্চি আইপিএস এলসিডি ক্যাপাসিটিভ টাচ স্ক্রিন রেজুলেশন ৭২০*১৫৬০ পিক্সেল। ফোনটি ফোরজি সাপোর্টেড। ব্যাক ক্যামেরা ১৩ মেগাপিক্সেল ১০৮০ পিক্সেল ৩০ এফপিএস। সেলফি ক্যামেরা ৮ মেগাপিক্সেল সাথে ফ্লাস লাইট রয়েছে।

ফোনটিতে নচ থাকায় ইউটিউব ভিডিও জানালে প্রথমে ছোট করে আসবে তারপরে জুম করে নিলে ভিডিও বড় করে দেখা যাবে। তবে নচ থাকার কারণে কিছুটা কাটা পড়বে ভিডিও। কিন্তু এভাবে দেখতে দেখতে আপনার এতে অভ্যস্ত হয়ে যাবেন। যারা এটি পছন্দ না করে তাদের জন্য রয়েছে এটি বন্ধ করে রাখার সুবিধা।

ফোনটিতে অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে অ্যান্ড্রয়েডের সর্বশেষ ভার্সন Android 9.0 (Pie); EMUI 9। চিপসেট হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে Mediatek MT6761 Helio A22 (12 nm)। কন্ট্রোল প্রসেসিং ইউনিট এ প্রসেসর হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে Quad-core 2.0 GHz Cortex-A53 এবং জি পি ইউ তে PowerVR GE8320 ব্যবহার করা হয়েছে। যা আপনাকে স্মার্ট ফোন ব্যবহারের সর্বোচ্চ সুবিধা প্রদান করবে। এছাড়া ডিসপ্লের অতিরিক্ত আলোর কারণে ব্যবহারকারীর চোখের ক্ষতি যাতে না হয় তার জন্য কমফোর্ট ভিউ সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে ফোনটি। এই ফিচারটি চালু করলে ফোনের ব্রাইটনেস কিছুটা কমে যাবে।

ফোনটি 3 জিবি র্যাম এবং 32 জিবি ইন্টারনাল মেমোরিতে পাওয়া যাবে। এছাড়া মাইক্রো এসডি কার্ডের মাধ্যমে ফোনের স্টোর 124 জিবি পর্যন্ত বাড়ানো যাবে। তবে চাইলে আপনি 512 জিবি মেমোরি ও ব্যবহার করতে পারেন।এতে কোন প্রকার সমস্যা হবে না।

PowerVR GE8320 থাকার কারণে ফোনটি আপনাকে দুর্দান্ত গেমিং এক্সপেরিয়েন্স দিবে। তবে সকল ফোনের একটি কমন সমস্যা হচ্ছে একটানা দীর্ঘদিন গেম খেললে ল্যাগ  করা। এটি তার ব্যতিক্রম নয়। আপনি চাইলে ফোনটা দিয়ে পাবজি গেম খেলতে পারবেন লো গ্রাফিক্সে।

ফোনটিতে ব্যাটারি হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে 3020 মাইক্রো অ্যাম্পিয়ার এর non-removable লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি। যা একটানা একদিন ব্যাকআপ দিতে সক্ষম। তবে একটানা নেট ব্রাউজিং এবং অন্যান্য কাজ করলে 5 থেকে 7 ঘন্টা ব্যাকআপ পাওয়া যাবে ফোনটিতে। ফোনটিতে কুইক চার্জিং প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়নি।

ফোনটির অসুবিধা সমূহ- এতে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর ব্যবহার করা হয়নি। তবে ফেস আনলক সুবিধা রয়েছে। কিন্তু এটি দিনের আলোতে খুব ভালো কাজ করলেও রাতের বেলায় একটু সমস্যা করে। এবং ফাস্ট চার্জিং সুবিধা না থাকা।

ফোনটির সুবিধা সমূহঃ এটাতে অ্যান্ড্রয়েডের সর্বশেষ সংস্করণ ব্যবহার করা হয়েছে, ডিজাইন অসাধারন, ওয়াটার ড্রপ নচ ডিসপ্লে, এবং সাউন্ড কোয়ালিটি অসাধারণ।

ফোনটির বাজার মূল্য নির্ধারন করা হয়েছে ১২ হাজর ৯৯৯ টাকা। সুতরাং মোটামুটি বাজেটের মধ্যে ফোনটি একটি অসাধারণ ফোন। এবং সবচাইতে পারফেক্ট কম্বিনেশন।

(Visited 26 times, 1 visits today)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *