জিন কি এবং মানব দেহে জিন কি কাজ করে

কিছুদিন আগে আমাদের দেশের বিজ্ঞানী ডঃ মাকসুদুল আলম পাটের জিন মানচিত্র আবিষ্কার করে। আমাদের গর্বের অংশীদার হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন বিশ্ব দরবারে। স্বাভাবিকভাবে সন্তানের চেহারা মা বাবার মত হয় কারণ সন্তানের শরীরে থাকে মা-বাবার জিন। পৃথিবীর প্রত্যেকটি জীবের আকার বৈশিষ্ট্য কেমন হবে সেটা নির্ধারণ করে দেয় তার জিন। কখনো ভেবে দেখেছেন কি, আমরা যে খাবার খাই সেটা ধীরে ধীরে আমাদের শরীরের অংশ হয়ে যায়? এই হজম প্রক্রিয়ার নেতৃত্বে তাকে নানা রকম পরিমাণে প্রোটিন তৈরির নির্দেশ দেয় জিন। হয়তো মানুষ এখন চাইলে ঠিক তার মত আরেকজন মানুষ ক্লোন করে ফেলতে পারবে জিন প্রযুক্তি ব্যবহার করে। কিন্তু এই জিনিসটা আসলে কি?আর এটি কিভাবে কাজ করে?

জিন

আমরা জানি পদার্থবিদ ক্ষুদ্রতম কণা হল অনু। আর এই অনুকে ভাঙলে এর আরো ক্ষুদ্রতম অংশ পাবো যাকে বলি পরমাণু। কোনভাবে যদি আমরা পরমাণুকে ভাঙতে পারি তবে আমরা কি পাব আপনি জানেন? আমরা পাবো আরো ক্ষুদ্রতম অংশ আর এই অংশগুলো হলো ইলেকট্রন,নিউট্রন ও প্রোটন। তেমনি আমাদের জীবদেহের রুতম একক কে বলা হয় কোষ। মূলত আমাদের দেহ ও অনেকগুলো কোষ দ্বারা তৈরি। এই কোষের মাঝে একটি প্রাণকেন্দ্র থাকে। একে বলা হয় নিউক্লিয়াস। অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে নিউক্লিয়াস পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায় এর ভিতরে কিছু পেচানো বস্তু রয়েছে। এদেরকে ক্রোমোজোম বলে। জীব দেহে ক্রোমোজোমের সংখ্যা ভিন্ন রকমের হয়ে থাকে।যেমন প্রতি কোষে আমাদের শরীরে থাকে 23 জোড়া ক্রোমোজোম। মশার থাকে 6 জোড়া আর বিড়ালের থাকে 34 জোড়া ক্রোমোজোম। এদের মধ্যে এক জোড়া ক্রোমোজোম থাকে যা আমাদের বংশ বাহক হিসেবে কাজ করে। আমাদের শরীরে এই ক্রোমোজোমগুলো অর্ধেক এসেছে বাবার শুক্রানু ও অর্ধেক এসেছে মায়ের ডিম্বাণু থেকে। শক্তিশালী অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে দেখা যায় ক্রোমোজোমের মধ্যে আবার কিছু চেইনের মতো পেচানো জিনিস রয়েছে। বিজ্ঞানীরা এটাকে ডিএনএর নামকরণ করল। আর এই ডিএনএর ক্ষুদ্রতম অংশ হলো জিন। প্রতিটি ক্রোমোজোমের শতশত থেকে হাজার হাজার জিন থাকতে পারে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসে যে এই জিন কি কাজ করে? প্রত্যেকটি জিন একটি করে নির্দিষ্ট এনজাইম প্রস্তুতির জন্য দায়ী।

বহু বছর ধরে বিজ্ঞানীরা আশাই করতে পারেনি,জিনের এই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র  বিষয় নিয়ে বিজ্ঞানীরা গবেষণা করতে পারবে।জিন বংশগতিতে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে। বাবা মার বৈশিষ্ট্য সন্তানের ভিতর বিদ্যমান হয় এই জিনের প্রভাবেই। তবে এই জিনের প্রভাবে যে সন্তান একদমিই বাবা-মায়ের মতো হবে তা কিন্তু একদমই ঠিক নয়। অনেকে বলে জিনের প্রভাবে বাবা-মায়ের ভিতরে যদি কোন অপরাধ প্রবণতা থাকে তা সন্তানের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তবে তা সম্পূর্ণরূপে নয়। মূলত আমাদের সমাজ এবং আশেপাশের পরিবেশের ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে মানুষ কেমন ভাবে তৈরি হবে তার জন্য। পরিবেশের উপর ভিত্তি করে অপরাধ প্রবণতা তৈরি হতে পারে এবং পারিপার্শ্বিক অবস্থার উপর ভিত্তি করে মানুষ অপরাধী হয়ে ওঠে। এক্ষেত্রে জিনের কোনো প্রভাব নেই। তবে বাবা-মায়ের অধিকাংশ আচার-আচরণ এবং বৈশিষ্ট্য সন্তানের উপর প্রভাব বিস্তার করার মাধ্যম হচ্ছে এই জিন।

(Visited 10 times, 1 visits today)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *