টাইটান সৌরজগতের সবচাইতে রহস্যময় উপগ্রহ

আজ আমাদের আলোচ্য বিষয় হচ্ছে সৌরজগতের সবচেয়ে রহস্যময় উপগ্রহ টাইটান কে নিয়ে। আমাদের সৌরজগতের একমাত্র গ্রহ হলো পৃথিবী। যেখানে প্রাণের উপস্থিতি রয়েছে। এখন পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা যতগুলো গ্রহ উপগ্রহ আবিষ্কার করেছে এর ভেতরের পৃথিবী বাদে কোন গ্রহ উপগ্রহের প্রাণের সন্ধান পায়নি তারা। তবে টাইটান হচ্ছে নাকি এমন একটি গ্রহ যেখানে প্রাণের উপস্থিতি আছে বলে আশঙ্কা করে বিজ্ঞানীরা। মূলত টাইটান নামটি এসেছে গ্রিক মিথোলজি থেকে যেখানে বর্ণনা করা হয়েছে টাইটান হচ্ছে মহাকাশের দেবতা যে কিনা টাইটান নামক গ্রহ থেকে এসেছে।

Titan photo source Wikipedia

টাইটান হলো সৌরজগতের দ্বিতীয় সবচেয়ে বড় উপগ্রহ। এই উপগ্রহটি আবিষ্কার হয় 25 শে মার্চ 1655 সালে। এটি আবিষ্কার করেছিল duch astronoma Christian hygiene Titan. টাইটান হলো এমন একটি উপগ্রহ যেখানে পৃথিবীর মতোই এটমোস্ফিয়ার রয়েছে। টাইটানের বায়ুমণ্ডল ধূলিকণা দিয়ে আচ্ছাদিত থাকার কারণে বহুদিন ধরেই টাইটান আমাদের কাছে রহস্য হয়েছিলো। টাইটানের বায়ুমণ্ডল পৃথিবী অপেক্ষা ভূপৃষ্ঠ থেকে অনেক উপরে। টাইটানের বায়ুমণ্ডল তার ভূপৃষ্ঠ থেকে 600 কিলোমিটার উপরে। হাজার 1980 সালের ভাইজাস মহাকাশযান টাইটানিক সম্পর্কে সঠিক ধারণা এবং তথ্য দেয়। সৌরজগতের সবচেয়ে বড় উপগ্রহ হচ্ছে গ্যানিমেড আর টাইটান হচ্ছে দ্বিতীয় উপগ্রহ। তবে এর বায়ুমণ্ডলের কারণে এর আগে ধারণা করা হতো টাইটান হচ্ছে সবচেয়ে বড় উপগ্রহ।

space planet

টাইটানিক সম্পর্কে অনেক রহস্যময় তথ্য রয়েছে যা বিজ্ঞানীদের সব সময় রোমাঞ্চিত করে এসেছে। টাইটান চাঁদ এবং মঙ্গল গ্রহ থেকে অনেক বড়। এবং এটি সংগ্রহ থেকে প্রায় 1.2 মিলিয়ন কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থান করছে। এটি মূলত একটি জীবন্ত উপগ্রহ বলে মনে করে বিজ্ঞানীরা যেখানে প্রতিনিয়ত কোন ক্যামিক্যাল এবং জিওলজিক্যাল প্রক্রিয়া ঘটে চলেছে। শনি গ্রহের 6 নম্বর উপগ্রহ হচ্ছে টাইটান টাইটানের এক দিন সমান পৃথিবীর 15 দিন 22 ঘন্টা। টাইটানে রয়েছে পৃথিবীর মতোই বায়ুমণ্ডল যেখানে 95 ভাগ নাইট্রোজেন এবং বাকি 5 ভাগ হাইড্রোজেন মিথেন ও অন্যান্য গ্যাস। পৃথিবীর পরে টাইটানিক হচ্ছে এমন একটি জায়গা যেখানে তরল পদার্থের উপস্থিতি রয়েছে। পৃথিবীতে যেমন জল তরল গ্যাসীয় এবং কঠিন অবস্থায় পাওয়া যায় তেমনি টাইটানের মিথেন এই তিন অবস্থায় পাওয়া যায়।

তাইতো না সবকিছুর উপরে মিথেনের প্রভাব রয়েছে পৃথিবীতে যেমন সমুদ্র নদীতে জল পাওয়া যায়। জল যেমন বাষ্প আকারে মেঘ হয়। তাইতো না ঠিক তেমনি মিথেন দাঁড়া মেঘের সৃষ্টি হয় এবং মিথেন বৃষ্টি হয়। টাইটান এবং পৃথিবীর মধ্যে এই একটাই তফাৎ যে পৃথিবীতে আমরা যে যে অবস্থায় জল পাই ঠিক একই অবস্থায় টাইটানে মিথেন পাওয়া যায়। আমরা যদি টাইটানের ভূপৃষ্ঠে দ্বারাই তাহলে সেখানে পৃথিবীর মতো পাথর দেখতে পাবো কিন্তু সেগুলো বরফ দ্বারা তৈরি এবং আকাশের দিকে তাকালে লাল রঙের আকাশ দেখতে পাবো যা ধূলিকণা দ্বারা তৈরি। এই ধূলিকণা কারণেই টাইটানে সূর্যের আলো পৌঁছায় খুব কম।

মহাকাশযান থেকে তোলা টাইটানের ছবি

টাইটানে পৃথিবীর মতো আগ্নেয়গিরি রয়েছে কিন্তু সেখানে লাভের পরিবর্তে বের হয় অতি ঠান্ডা তরল অ্যামোনিয়া ও মিথেন। এগুলো কে আইস ভলকেন বলা হয়। টাইটানের বায়ুমণ্ডল খুবই নতুন ধারণা করা হয় এটি এক মিলিয়ন থেকে এক বিলিয়ন বছরের মধ্যে। তবে উপগ্রহটি তৈরি হয়েছিল সৌরজগতের সেই প্রথম থেকে। টাইটানের বায়ুমণ্ডলের প্রচন্ড ধূলিকণা থাকার কারণে সূর্যের আলো তাতে লিফলেট হয়ে মহাকাশে ফিরে যায় এবং যার কারণে উপগ্রহ টিতে প্রচণ্ড ঠাণ্ডা বিরাজ করে। টাইটানের পর তাপমাত্রা মাইনাস 180 ডিগ্রি সেলসিয়াস। আমাদের পৃথিবীর মতো টাইটানিয়াম রয়েছে নদী যেটি আমাদের পৃথিবীর নীল নদের মতোই বিস্তৃত। নদীটি আড়াইশো মাইল পর্যন্ত দীর্ঘ। এই নদীটি মিথেন এবং মিঠুনের তরল দিয়ে গঠিত।

এই উপগ্রহের সবচেয়ে বড় ঝিল হচ্ছে ক্রাঙ্কেন মারে যা এক লক্ষ 54 হাজার মাইল জুড়ে বিস্তৃত। এই ঝিলে অনেক আইল্যান্ড দেখা যায় যা কিছু সময় পর পর কোথাও হয়ে যায় আবার কিছু সময় পরপর এসে উপস্থিত হয়। তাই বিজ্ঞানীরা এর নাম দিয়েছে ম্যাজিক আইল্যান্ড। এইসব রহস্যময় বিষয়গুলো খতিয়ে দেখার জন্য বিজ্ঞানীরা বহুবার টাইটানে মহাকাশযান পাঠিয়েছে। টাইটানের পাঠানো সর্ব প্রথম মহাকাশযান পায়নীর 1973 সালে পাঠানো হয়। যে মহাকাশযানটি বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে যা থেকে জানা যায় উপগ্রহটির বায়ুমণ্ডল ঠান্ডা এবং যেখানে প্রাণ থাকার কোন আশঙ্কাই নেই। এটি টাইটানের কিছু ছবিও পৃথিবীতে পাঠিয়েছিল। এরপরে 1980 সালের টাইটানের পাঠানো হয় ভয়েজার 1 এবং 1981 সালে পাঠানো হয় ভয়েজার 2 মহাকাশযান। ভয়েজারকে এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছিল যা টাইটান কে প্রদক্ষিণ করার সময় এর সম্পর্কে সকল ধারনা যেমন বায়ুমণ্ডল ভূপ্রকৃতি ইত্যাদি সম্পর্কে সঠিক তথ্য পৃথিবীতে পাঠাতে পারে।

বিজ্ঞানীরা মনে করে টাইটানে মিথেনের সমুদ্র থাকতে পারে এবং সেই সেখানে পৃথিবীর সমুদ্রের মত প্রাণীও রয়েছে। কিন্তু তারা শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য ব্যবহার করে হাইড্রোজেন এবং গ্লুকোজের জায়গায় অ্যাসিটিলিন এর সাহায্যে ম্যাটাবলাইজ করে। তারা হয়তো বা কার্বন-ডাই-অক্সাইডের নাই মিথেন বাতাসে ছাড়ে। আমরা যেমন পানি পান করে তারা তেমনি ইথেন বা মিথেনের তরল পান করেন। এ সকল শুধুই ধারণা এর উপর সুস্পষ্ট কোনো প্রমাণ নেই। তবে মানুষের জীবন ধারণের জন্য কোনোভাবেই তা উপযুক্ত নয়। টাইটানে মানুষের বসবাস অসম্ভব এর প্রধান কারণ হচ্ছে সূর্য।

ধারণা করা হয় হয়তোবা 5 বিলিয়ন বছর পর আমাদের সূর্য রেড জায়ান্ট হয়ে যাবে। তখন টাইটানের বায়ুমণ্ডল এখনকার তুলনায় অনেক উষ্ণ অবস্থা ধারণ করবে। এবং এই দীর্ঘ সময়ে টাইটানের বায়ুমন্ডলের ধূলিকণার পরিমাণ কমতে শুরু করবে। তখন হয়তোবা টাইটান হয়ে উঠবে মানব জীবন ধারণের জন্য উপযুক্ত একটি জায়গা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *