ডার্ক ওয়েব এবং ডিপ ওয়েব সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা

ইন্টারনেট হচ্ছে এমন একটি জায়গা যেখানে আপনি আপনার প্রয়োজনীয় সকল তথ্য পাবেন। আমরা ইন্টারনেট বলতে বুঝি গুগল,ইউটিউব,ফেইসবুক ইত্যাদি। কিন্তু এগুলোর বাইরে ও যে ইন্টারনেটের বিস্তৃতি তা আমরা অনেকেই হয়তো জানি না। সমগ্র ইন্টারনেট জগত তিন স্তর বিশিষ্ট সারফেস ওয়েব, ডার্ক ওয়েব এবং ডিপ ওয়েব।

সারফেস ওয়েব হচ্ছে আমরা প্রতিনিয়ত কাজের জন্য যে ওয়েব সাইটগুলি বা গুগোল,উইকিপিডিয়া, বিং  ইত্যাদি।  চিন্তা করে দেখুন তো কি নেই এই ইন্টারনেট দুনিয়ায়। আপনি যা চাইবেন তাই পাবেন। শুধুমাত্র গুগোল এ আপনি লিখে সার্চ করলে চলে আসে হাজার হাজার তথ্য। কোন ব্যক্তির পক্ষে সম্ভব না এইসব একা খুঁজে শেষ করা। কোন ব্যক্তি যদি তার সারা জীবন ব্যয় করে দেয় সমগ্র তথ্য জানার জন্য তবু সে ব্যর্থ হবে। এই সার্ফেস ওয়েব হচ্ছে সমগ্র ইন্টারনেট জগতের মাত্র ৫ শতাংশ। শুনে অবাক হচ্ছেন তাই তো?

যে এই এত বিশাল তথ্য ভান্ডার তা কি না সমগ্র ইন্টারনেট দুনিয়ার মাত্র 5 শতাংশ। তাহলে বাকি 95% কি আছে।এটা জানার হয়তো অনেক কৌতুহল জাগছে আপনার মনে তাই না।

সমগ্র ইন্টারনেট জগত তিন ভাগে বিভক্ত ডার্ক ওয়েব,ডিপ ওয়েব এবং সার্ফেস ওয়েব।মাত্র ৫ শতাংশ রয়েছে আমাদের এই সারফেস ওয়েবে। বাকি সমস্ত তথ্য বা উপাত্ত রয়েছে ডার্ক ওয়েব এবং ডিপ ওয়েবে।

ডার্ক ওয়েব বলতে আমরা বুঝি ইন্টারনেটের এক অন্ধকার জগত কে। এখানে সাধারন মানুষের প্রবেশ নিষেধ। এবং আপনি চাইলেই এই ডার্ক ওয়েবে প্রবেশ করতে পারবেন না। আমরা সাধারণত ওয়েব ব্রাউজিং এর জন্য ব্যবহার করে থাকি বিভিন্ন ধরনের ব্রাউজার। ক্রোম,ফায়ারফক্স,অপেরা মিনি,ইউসি ব্রাউজার ইত্যাদি আরো অনেক ধরনের ব্রাউজার। এই ব্রাউজার এ গিয়ে আপনি যে কোন কিছু সার্চ করলেই সামনে হাজার হাজার তথ্য পেয়ে যান। কিন্তু ডার্ক ওয়েবের ক্ষেত্রে তা নয়। ডার্ক ওয়েবে প্রবেশ করতে হলে আপনাদের প্রথমে প্রয়োজন হবে আপনাদের আইপি এড্রেস হাইড করা। এবং বিশেষ নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা যা টর নেটওয়ার্ক নামে পরিচিত। এইট টর নেটওয়ার্ক এমন একটি সিস্টেম যেখানে ব্যবহারকারীর ঠিকানা প্রতিনিয়ত বদলাতে থাকে যার ফলে ব্যবহারকারীর সঠিক ঠিকানা খুঁজে বের করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। এবং এই ডার্ক ওয়েবের ঠিকানা গুলো সারফেস ওয়েবের ঠিকানার মত কোন সাজানো গোছানো নাম দিয়ে নয়। ডার্ক ওয়েবের ঠিকানা থাকে এলোমেলো কতগুলো বর্ণ নিয়ে। যেগুলো সাধারণ মানুষের পক্ষে কখনই মনে রাখা সম্ভব নয়। এবং আমাদের মত সাধারণ ব্যবহারকারীরা ডার্ক ওয়েব ব্যবহার করতে পারব না বা কিছুই বুঝবো না। মূলত ডার্ক ওয়েব ব্যবহার করে থাকে হ্যাকাররা। ডার্ক ওয়েবে অনেক কিছু পাওয়া যায় যেমন বিভিন্ন হ্যাকিং টুলস ব্লাংক মাস্টার কার্ড মাদক অস্ত্র সহ বিভিন্ন অবৈধ জিনিসপত্রের লেনদেন হয় ডার্ক ওয়েবে অ্যাপল কোম্পানি সহ বিভিন্ন কোম্পানির প্রডাক্ট 80% পর্যন্ত ছাড়ে বিক্রয় করা হয়।

ফেব্রুয়ারি ২০১৬ এ ওয়েব নির্ভর লুকায়িত সেবা সমুহঃ-
বিভাগ শতকরা হার
সহিংসতা

০.৩

অস্ত্র

০.৩

সামাজিক

১.২

হ্যাকিং

১.৪

অবৈধ পর্নোগ্রাফি

২.৩

যোগসূত্র

২.৩

চরমপন্থা

২.৭

অজানা

৩.০

অন্যান্য অবৈধ

৩.৮

ফাইন্যান্স

৬.৩

মাদক

৮.১

অন্যান্য

১৯.৬

কোনটি না
৪৭.৭

তথ্য সূত্রঃ উইকিপিডিয়া।

বিবিসির এক সংবাদে জানানো ইউরোপের ১৬ টি দেশের যৌথ প্রচেষ্টায় সিল্ক রোড টু সহ আরো ৪০০ টির বেশি ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেওয়ার কথা। যেখানে মাদক অবৈধ অস্ত্র লেনদেন করা হতো। প্রথমে তারা সিল্ক রোড নামে একটি ওয়েবসাইট বন্ধ করে। কিন্তু পরবর্তীতে সিল্ক রোড টু নামে আরেকটি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে তারা তাদের অবৈধ ব্যবসা অব্যাহত রাখে। পরবর্তীতে দাবি করা হয় এই সিল্ক রোড টু  ও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু অনেকেই বলেন সিল্ক রোড এখনো রয়েছে। তারা একটি বন্ধ করতে পারেনি শুধুমাত্র এর কিছু শাখা তারা বন্ধ করতে পেরেছিল কিন্তু তাদের কার্যক্রম পুরোপুরি ভাবে কখনোই বন্ধ করতে পারেনি।

পরবর্তী পোষ্টে আপনাদের জন্য আরও বিষদ বিবরন নিয়ে হাজির হব।ততক্ষণ আমাদের সাথে থাকুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *