ডেঙ্গু মশা প্রতিরোধের উপায়

বর্তমানের ডেঙ্গু মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। এবং শত শত রোগ ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছে। ডেঙ্গু জ্বর হয় মূলত এডিস মশার কামড়ে।এটি একটি ভাইরাস জনিত রোগ।ডেঙ্গু আক্রান্ত প্রথম থেকে আলাদা কোনো লক্ষণ দেখা না গেলেও পরবর্তীতে মারাত্মক আকার ধারণ করে।

ছবি:এডিস মশা

ডেঙ্গু জ্বর ছড়ায় মূলত এডিস মশার কামড়ে এবং ডেঙ্গু চার প্রকার। যথা ডেন-১,ডেন-২,ডেন-৩ এবং ডেন-৪। ডেঙ্গু জ্বর দুই প্রকা।যথা ক্লিনিক্যাল ডেঙ্গু এবং হেমোরেজিক ফিভার।ক্লিনিক্যাল ডেঙ্গু সহনশীল হলেও ফেমোরেজিক ফিভার মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে।

ডেঙ্গু জ্বরের প্রথম থেকে আলাদা কোনো লক্ষণ দেখা না দিলেও শরীরে প্রচন্ড জ্বর হয়। জ্বরের মাত্রা ১০৫ ডিগ্রি পর্যন্ত হতে পারে। এটি ৪-৫ দিন পর্যন্ত দীর্ঘস্থায়ী হয়। এর সাথে শরীরের বিভিন্ন অংশের প্রচণ্ড ব্যথা অনুভূত হয়। যেমন,ঘারে,কোমড়ের, মাথার পিছন অংশের, চোখে এবং মাংসপেশিতে প্রচন্ড ব্যথা হয়। এবং 5-6 দিন হলে সারা শরীরে লালচে দানা দেখা যায় এবং ঘামাচির মত স্কিন রেশ  ওঠে।

ডেঙ্গু জ্বরে মূলত আলাদা করে ট্রিটমেন্ট করা হয় না সাধারণত করে এর চিকিৎসা করা হয়। তবে এটি মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে এবং মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। তাই আমাদের এর প্রতিশোধকের আগে প্রতিরোধের  কথা চিন্তা করা উচিত।

ছবি:এডিস মশা

ডেঙ্গু জ্বর যেহেতু এডিস মশার কামড়ে হয় সেক্ষেত্রে এডিস মশার বংশবিস্তার বন্ধ করা গেলে। এবং এডিস মশা আমাদের যাতে না কামড়াতে পারে সে ব্যবস্থা গ্রহণ করা গেলে আমরা এই মারাত্মক ডেঙ্গু জ্বর হতে রক্ষা পেতে পারি।

এডিস মশা প্রতিরোধে আমাদের যে সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত তা হল –

⏩এডিস মশার জন্ম গ্রহণ করে বিভিন্ন জমে থাকা পানির ভিতর। যেমন-ফুলের টব,ডাবের খোসা, পুরনো প্লাস্টিকের বোতল,এছাড়াও বিভিন্ন জমে পানির ভিতরে এডিস মশার ডিম পাড়ে এবং তা থেকে বাচ্চা হয়। তাই বাড়ির আশপাশে কোথাও এরকম দেখলে তা পরিষ্কার করতে হবে। কোথায় রকম পানি না জমে সে বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে।

⏩কোথায় এডিস মশা বা অন্য কোন মশার ডিম পারলে সে জলের ভেতরে ছোট ছোট কৃমির মত নড়াচড়া করতে দেখা যায়। সেগুলো নষ্ট করে যেতে হবে।

ছবি:মশার জিবন চক্র

 

যদি কোথাও দেখা যায় প্রচুর পরিমাণে মশার বাচ্চা জন্ম নিয়েছে।সে পানির ভিতর সামান্য পরিমাণ কেরোসিন তেল দেওয়া হলে মশার বাচ্চা সব মারা যাবে।⏩ঘুমানোর সময় মশারি ব্যবহার করতে হবে সেটি দিনে হোক বা রাতে।

⏩মশা থেকে বাঁচার জন্য মশার কয়েল বা স্প্রে ব্যবহার করতে হবে।

⏩এই সিজনে ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি তাই সাধারণ জ্বর হলে ওর সাথে সাথে রক্ত পরীক্ষা করা উচিত।

উপরোক্ত সতর্কতা মেনে চললে ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়া থেকে আমরা মুক্ত থাকতে পারব। এবং যদি কেউ ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করতে হবে। এবং রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হতে হবে ডেঙ্গু হয়েছে কিনা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *