দইয়ের গুনাগুন এবং শরিরের কি কি উপকার করে

দই হচ্ছে দুধের তৈরি একটি খাদ্য।যা আমাদের দেশে এবং সারা পৃথিবীর সকল দেশেই জনপ্রিয় একটি মুখরোচক খাবার।দাওয়াত এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে খাবারের শেষে দই পরিবেশন করা আমাদের সংস্কৃতির একটি অন্যতম রেওয়াজ। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন ধরনের দই তৈরি করা হয়। দই তৈরির ইতিহাসও বহু পুরনো।প্রায় ৪৫০০ বছর আগে থেকেই দই তৈরি করা হতো। দই তৈরি করা হয় মূলত গাজন প্রক্রিয়ায়।এ প্রক্রিয়ায় দুধে ব্যাকটেরিয়া তৈরি হয় এবং সেগুলো দুধের থাকা ল্যাকটিক এসিডের সাথে বিক্রিয়া করে তৈরি হয় দই।

দইয়ে থাকা ব্যাকটেরিয়া গুলো মানুষের শরীরের জন্য কোন প্রকার ক্ষতিকর নয় বরঞ্চ উপকারী। যা আমাদের খাদ্য কে দ্রুত পরিপাক করায় সহায়তা করে। খাবার শেষে দই খেলে আমাদের পাকস্থলীতে খাদ্য পরিপাক হওয়া শুরু করে।এছাড়াও দই অমাদের শরিরের বিভিন্ন উপকার করে।সেগুলো হলো-

দইয়ে থাকে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন ডি যা আমাদের শরীরের হাড় কে মজবুত করতে সহায়তা করে। নিয়মিত দই খেলে আমাদের হাড় শক্ত এবং মজবুত হবে।

শরীরে বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া তৈরি হয় যেগুলো আমাদের শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। কিন্তু দই এ থাকা ব্যাকটেরিয়া আমাদের জন্য উপকারী এবং আমাদের শরীরে তৈরি হওয়া মারাত্মক ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া গুলোকে ধ্বংস করে।

এটি আমাদের খাদ্য কে দ্রুত পরিপাক করতে সহায়তা করে। আর এ কারণেই খাওয়ার শেষে দই খাওয়া হয়।

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। দুইটাকে ফসফরাস যা আমাদের উচ্চ রক্তচাপ এর কন্ট্রোল করতে সহায়তা করে।

আমাদের ত্বক সুন্দর এবং মসৃণ করে।এটিতে থাকেন ল্যাকটিক অ্যাসিড যা আমাদের ত্বককে মসৃণ এবং সুন্দর করে তুলতে সহায়তা করে। এ ছাড়াও আমাদের দেহের মৃত কোষ কে সরিয়ে ফেলতে সহায়তা করে।

দইয়ে ল্যাকটিক এসিড এর পাশাপাশি রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এবং খনিজ উপাদান।এতে ভিটামিন বি৫ রয়েছে উল্লেখযোগ্য মাত্রায় এছাড়া পটাশিয়াম,জিংক, ফসফরাস এবং আয়োডিন।

নিয়মিত দই খেলে আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং রক্তে শ্বেত রক্ত কণিকার পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।

বিভিন্ন ছত্রাকের সংক্রমণ হতে আমাদের দেহকে রক্ষা করে।আমাদের দেহের সংবেদনশীল অঙ্গের বিভিন্ন ধরনের ছত্রাক জন্ম নেয় যা দই খেলে প্রতিরোধ হয়।

পাকস্থলীর বিভিন্ন সমস্যা দূর করতে এর ভূমিকা অপরিসীম।পাকিস্তানি কেন সমস্যা যেমন কোষ্ঠকাঠিন্য, ডায়রিয়া, কোলন ক্যান্সার, অন্ত্রের সমস্যা ইত্যাদি দূর করে।

এটি আমাদের ওজন কমাতে সহায়তা করে। কারণ দই খেলে আমাদের শরীরে জমে থাকা চর্বি ব্যবহৃত হয়। যার ফলে আমাদের দেহের ওজন কম হয়।

উপরোক্ত বিষয়গুলো হতে আমরা দইয়ের উপকারিতা সম্পর্কে বিশদভাবে জানতে পারলাম তাই আমাদের স্বাস্থ্যের পক্ষে উপকারী এবং ভিটামিন এর অন্যতম উৎস হিসেবে কাজ করে। তাই আমাদের নিয়মিত দই খাওয়া উচিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *