ন্যানো টেকনোলজি কি -what is nanotechnology

ন্যানো মূলত পরিমাপের একক। গ্রিক শব্দ ন্যানাস থেকে ন্যানো শব্দের উৎপত্তি। ন্যানোপ্রযুক্তি সম্পর্কে সর্বপ্রথম বক্তব্য প্রদান করেন আমেরিকান পদার্থবিদ রিচার্ড 1959 সালের 29 ডিসেম্বর তিনি তার বক্তব্যে এমন একটি প্রক্রিয়ার কথা বর্ণনা করেন।যার সাহায্যে প্রত্যেক স্বতন্ত্র অনু-পরমানু নিপুণভাবে বিকশিত হতে পারে।তথা ব্যবহৃত করা যেতে পারে এজন্য প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট একটি সেট সরঞ্জাম আনুপাতিক হারে অন্য আরেকটি ছোট সেট তৈরি ও পরিচালনা করতে পারে। পরবর্তীকালে 1987 সালে টোকিও ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্সের বিজ্ঞানী নরিও তানিগুচি এ প্রসঙ্গে তার বক্তব্য প্রদান করে।তার মতে একটি অণু বা পরমাণু দ্বারা কোন পদার্থ পৃথককরণ একীভূতকরণ ও আকৃতির প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে পরিবর্তন করাই হলো ন্যানোপ্রযুক্তি।

1980 সালে কে এরিক ডেক্সলার, রিচার্ড ফেম্যানের মতামতের সাথে ভিন্নমত প্রদান করেন। তার মতে ন্যানোপ্রযুক্তি হল সম্ভাব্যতার সূত্র নয় বরং অনু ও পরমাণু স্বতন্ত্রভাবে নিয়ন্ত্রণ বাদী। মূলত এর সময় হতে এ প্রযুক্তির ব্যাপক উন্নতি ঘটতে থাকে। ন্যানোপ্রযুক্তি হল ব্যবহারিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি যা আমাদের কোন একটি স্বতন্ত্র পরমাণুর স্কেল হতে নতুন কোন বস্তুকে তৈরি করতে সক্ষম করে।অর্থাৎ এ প্রযুক্তির ফলে কোন উপকরণের এতটাই ক্ষুদ্র করে নির্মাণ করা যায় যে এর কোন আর অপেক্ষাকৃত ক্ষুদ্র করা সম্ভব নয়।

20 বছর আগেও কেউ এমন চিন্তা করতে পারেনি যে একটি মেমোরি স্টিক এর মধ্যে সম্পূর্ণ এনসাইক্লোপিডিয়া সংরক্ষণ করা যাবে। আর বর্তমানে এটি আরও অবিশ্বাস্য যে সম্পূর্ণ ইনসাইক্লোপিডিয়া একটি চিপ এর মধ্যে সংরক্ষণ করা যাবে যার আকৃতি একটি ধূলিকণার আকৃতির সমান তুমি যদি এক মিটার কে এক মিলিয়ন ভাগে ভাগ করো তবে তুমি এক ন্যানো পাবে। অথবা তুমি যদি একটি ব্যাকটেরিয়াকে 200 ভাগে ভাগ করা হয় তবে একটি ভাগ 1 ন্যানো সমান হবে। আর এটি হলো এটম স্কেল ন্যানোপ্রযুক্তি। এটি এমন একটি প্রযুক্তির যা নির্ভর করে ক্ষুদ্র বস্তুর উপর অর্থাৎ এর গঠন প্রকৃতি ন্যানো গঠন এবং পরমাণু গঠনের মতো।

একই ধরনের উপাদান আণবিক মাত্রায় কার্যকর পদ্ধতি প্রকৌশল হলো ন্যানো টেকনোলজি বা ন্যানো প্রযুক্তি।বর্তমানে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন পণ্য ব্যবহার করা হচ্ছে যা তৈরি করা হচ্ছে ন্যানোপ্রযুক্তি কৌশল এবং টুলস ব্যবহারের মাধ্যমে। পরিবেশ রক্ষার জন্য অণু-পরমাণুর স্কেলে কোন পদার্থকে সাধিত করে প্রযুক্তিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়েছে যাকে ন্যানো প্রযুক্তি ভিত্তিক শিল্প ও বিজ্ঞান বলা হয়।

তাহলে উপরোক্ত আলোচনা থেকে আমরা ন্যানো প্রযুক্তি সম্পর্কে একটি সুস্পষ্ট ধারণা পেয়ে থাকি তা হলো যখন কোন একটি বস্তুর কার্যক্ষমতা বাড়ানোর জন্য কোন বিশেষ প্রযুক্তি বা যন্ত্র ব্যবহার করে অনু-পরমানু গুলোকে ন্যানোপার্টিকেল পরিবর্তন করা হয় তখন সেই প্রযুক্তিকে ন্যানোটেকনোলজি বলে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *