পাবজি গেম নিষিদ্ধ করা হলো নেপালে

বর্তমান সময়ে জনপ্রিয়তার শীর্ষে অবস্থান করা গেম হচ্ছে প্লেয়ারআননোওন’স ব্যাটলগ্রাউন্ড বা সংক্ষেপে পাবজি। সারা পৃথিবীর কোটি কোটি লোক এই পাবজি গেম খেলে। গেমটি নির্মাণ করেছেন টেনসেন্ট  অ্যাপস কোম্পানি। এটি একটি সারভাইভাল গেম। এখানে আপনাকে খালি হাতে একটি দ্বীপে ছেড়ে আসা হবে। যেখানে আরো অনেকেই থাকবে আপনার মত।  গেমসটির মূল বিষয় হচ্ছে সেখানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বিভিন্ন বাড়ি কারখানা ইত্যাদি মধ্যে থেকে আপনাকে অস্ত্রসহ বিভিন্ন যুদ্ধের সরঞ্জাম সংগ্রহ করে বাকিদের সাথে যুদ্ধ করে বিজয়ী হতে হবে। এখানে সর্বশেষ যে প্লেয়ার বেঁচে থাকবে সেই হবে বিজয়ী। গেমটি  সম্পূর্ণ অনলাইন ভিত্তিক। এটি ভিন্ন চিন্তা ধারার গেম হওয়ার কারণে এর ব্যবহারকারী খুব দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে।  টেন্সেন্ট কোম্পানি জানায় গেমটি পাবলিশ করার এক সপ্তাহের ভিতরে ১০০ টির বেশি দেশে গেমটি ডাউনলোড করা হয়। বর্তমানে এটি খুবই জনপ্রিয় একটি গেম। আমাদের দেশেও এই গেমটির গ্রাহকের সংখ্যা একদম কম নয়। আমাদের দেশের সকল বয়সের লোকজন এই গেমটি খেলে থাকে। তবে গেমটি হাই কোয়ালিটি গ্রাফিক্স এর কারণে। এবং অ্যাপ্লিকেশন এর সাইজ অনেক বড় হওয়ায় সাধারণ এন্ড্রয়েড ফোনে গেম খেলা যায় না। গেমটি খেলতে হলে ন্যূনতম তিন জিবি র্যাম থাকা জরুরি এছাড়াও ভাল মানের ফোন না হলে গেমটি সঠিকভাবে খেলা যায় না। তবে গেমটির নতুন  লাইট ভার্সন চালু  হয়েছে যেগুলো সাধারণ ফোনেও খেলা যাবে তবে এটি এখন পর্যন্ত জনসাধারণের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করা হয়নি।

সারা পৃথিবীর মানুষের মধ্যে গেমটির প্রতি একটি আসক্তি তৈরি হয়ে যাচ্ছে।  এটি সকল বয়সের মানুষই খেলে থাকেন তবে এর বেশিরভাগ প্লেয়ার হচ্ছে স্টুডেন্ট। অনেকেই আছেন এটি দিনে ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা খেলেন। অন্যান্য বাকি কাজ ফেলে এই গেমে পড়ে থাকেন অনেকে। শিক্ষার্থীরা হয়ে পড়ছে পড়াশোনায় অমনোযোগী। আর এসকল কারণে নেপালে বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে পাবজি গেম।

মোবাইল হাতে নেওয়ার পরে যখন এই গেমটি খেলে তারা আশে পাশে তাকানো বা অন্য কোন জিনিস খেয়াল করা ভুলে যাচ্ছে তাদের মনোযোগ সম্পূর্ণ গেম এর দিকে চলে যায়। এটি একটি নেশার মত কাজ করে তাদের মধ্যে। তাই তারা লেখাপড়া বাদ দিয়ে সারা দিন এই গেমে ব্যস্ত থাকে এবং তাদের ভিতর একটি আগ্রাসী মনোভাব সৃষ্টি হচ্ছে। আর এরই ধারাবাহিকতায় জনগণ তাদের সন্তানদের রক্ষার্থে আইনের শরনাপন্ন হলে নেপালের আদালত জনস্বার্থ মামলায় এই পাবজি গেম কে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।

তারা নেপাল থেকে পাবজি খেলার লিংক এবং সমস্ত কিছু বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে। এবং এ বিষয়ে তারা জানায় অভিভাবক ছাড়াও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে অভিযোগ আসে। তাদের শিক্ষার্থীরা পড়ালেখার প্রতি সম্পূর্ণ অমনোযোগী হয়ে যাচ্ছে।সারাদিন তারা এই গেম নিয়ে ব্যস্ত থাকছে।

এছাড়া গেমটির অতিরিক্ত আসক্তির কারণে পারিবারিক কলহ সৃষ্টি হচ্ছে। সর্বোপরি বলা যায় গেমটি একটি মহামারী আকার ধারণ করেছে। আর এ কারণেই কাঠমন্ডুর জেলা আদালত পাবজি গেম নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দেয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *