প্রযুক্তির যুগে আমাদের ব্যাক্তিগত তথ্য কতটা নিরাপদ

বর্তমান যুগ হচ্ছে প্রযুক্তি নির্ভর।আমাদের দৈনন্দিন কাজে লেগেছে প্রযুক্তির ছোয়া।এটি আমাদের প্রতিটি মুহুর্তকে করে তুলেছে সহজ এবং বিলাসিতা পুর্ন।আমাদের কাজকে করে তুলেছে অনকে সহজ।আগে আমরা কারো সাথে যোগাযোগ করতে গেলে কতটা সময় সাপেক্ষে ব্যাপার হয়ে দাড়াত।কিন্ত প্রযুক্তি আমাদের নিয়ে এসেছে একে অপরকে একান্তই কাছে। প্রযুক্তির ব্যাবহারের ফলে আমাদের জিবন কতটা সহজ ও সুন্দর করে তুলেছে সেটি আমার বর্ননার প্রোয়জনীয়তা নেই। আপনারাই লক্ষ্য করতে পারেন।

যোগাযোগ,কথাবার্তা,লেনদেন,বিনোদন সবকিছুই আমাদের এখন প্রযুক্তিনির্ভর।বর্তমানে আমাদের দৈনন্দিন কাজের একটি অপরিহার্য অংশ হচ্ছে কম্পিউটার এবং মোবাইল ফোন। বর্তমানে মোবাইল ফোন গুলো অনেক উন্নত। একটি মোবাইল ফোন দিয়ে আপনি কম্পিউটারের যাবতীয় কাজ করতে পারবেন। এবং সে কাজগুলো করার জন্য রয়েছে বিভিন্ন প্রকার এপ্লিকেশন বা সফটওয়্যার। যেগুলো ব্যবহারের জন্য আমাদের বিভিন্ন কিছু শর্ত দেয়া থাকে। যেমন আপনার লোকেশন,ফাইল ম্যানেজার এর এক্সেস করার পারমিশন সহ বিভিন্ন পারমিশন তাদের দেয়া থাকে। এছাড়াও টার্মস এন্ড কন্ডিশন উল্লেখ থাকে তারা আপনার বিভিন্ন তথ্য ব্যবহার করতে পারবে। এটি তারা করে থাকে আপনাকে উন্নত মানের সেবা প্রদানের জন্য। তারা এর থেকেই আপনার চাহিদা এবং প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে ধারণা লাভ করে এবং আপনাকে উপযুক্ত সেবা প্রদান করে থাকে।

আপনার একবারও কি ভেবে দেখেছেন যদি এগুলো শুধুমাত্র আপনাকে সেবাদানের ক্ষেত্রে ব্যবহার না হয়ে এগুলো অন্য কারও হাতে চলে যায় তাহলে কতটা ভয়াবহ হতে পারে এর ফলাফল। এগুলো কিন্তু আপনাদের একান্তই ব্যক্তিগত তথ্য। আমার সোশ্যাল মিডিয়া সহ বিভিন্ন ওয়েবসাইটে বা পত্রিকা ঘাটলে প্রায়ই শুনতে পাই বিভিন্ন কোম্পানির তথ্য চুরির ঘটনা। এছাড়াও তারা তাদের ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় বিভিন্ন কোম্পানি বা ব্যক্তির নিকট তাদের নিকট জমাকৃত তথ্য প্রদান করে থাকে। এটি তারা হোক তাদের আর্থিক স্বার্থে বা অন্যান্য কারণে প্রদান করে থাকে।

তাহলে আপনি কখনো চিন্তা করেছেন যে বর্তমান প্রযুক্তির যুগে আপনি বা আপনার তথ্য কতটা নিরাপদ থাকে। এবং আপনার ব্যক্তিগত তথ্য কতটাই বা ব্যক্তিগত থাকে।

তবে সফটওয়্যার বা অ্যাপ্লিকেশন কোম্পানিগুলো দাবি করে তারা ব্যবহারকারীর সম্মতিতেই তাদের তথ্য গুলো ব্যবহার করে থাকে। কিন্তু ভাবনার বিষয় হচ্ছে এটাই যে এটা কতটুকু সত্য বা বিশ্বাসযোগ্য। সম্প্রতি শোনা যায় ফেসবুক কোম্পানির তথ্য চুরির ঘটনা। কোন কোন কোম্পানির ব্যক্তিগত ইচ্ছায় বা অনিচ্ছাকৃতভাবে তথ্য ফাঁস হয়ে থাকে।কিন্তু তার জন্য তারা কোন কার্যকরী পদক্ষেপ নেন না।

ব্যক্তিগত অর্থ অন্যের নিকট চলে যাওয়া কতটা ভয়াবহ হতে পারে তা হয়তো আপনার কল্পনার বাইরে।বিভিন্ন হ্যাকার সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান আপনার ব্যক্তিগত  তথ্য নিয়ে থাকে। অনেক গুলো নেয়া হয় ভালো কাজের জন্য আবার হ্যাকাররা আপনার ব্যক্তিগত তথ্য নিয়ে থাকে অবশ্যই তাদের স্বার্থ হাসিলের জন্য তারা আপনার তথ্য নিয়ে আপনাকে ব্ল্যাকমেইল,সম্পদ চুরি সহ বিভিন্ন ধরনের কর্মকান্ড করতে পারে। তাই সতর্কতার সাথে আমাদের এগুলো ব্যবহার করা উচিত।

আমাদের করনীয়ঃ তথ্য চুরি সহ সব ঘটনা এড়াতে আমাদের করণীয় প্রতিটি সফটওয়্যার অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহারের পূর্বে আপনি ভালো ভাবে তাদের শর্ত গুলো পড়ে নিবেন। এবং অনেক অ্যাপ্লিকেশন এর পারমিশন থাকে যেগুলো প্রদান না করলেও আপনার সফটওয়্যার টি ব্যবহার করতে পারবেন। কিন্তু সেগুলো আমরা নিতান্তই আমাদের গাফিলতি এবং অলসতার কারনে খেয়াল করি না। এছাড়াও প্রয়োজনীয় মুহূর্ত ছাড়া আমাদের লোকেশন সার্ভিস বা জিপিএস বন্ধ রাখা। এগুলো শুধুমাত্র আপনি আপনার প্রয়োজনীয় মুহূর্তে ব্যবহার করবে। যেমন গুগল ম্যাপ ব্যবহার করতে আপনাকে জিপিএস ব্যবহার করতে হবেই। অপ্রয়োজনীয় সফটওয়্যার বা অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন। এবং আপনার তথ্যের প্রতি অধিক গুরুত্ব আরোপ করুন।

(Visited 36 times, 1 visits today)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *