ফ্রিল্যান্সিং বা আউটসোর্সিং সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা

ফ্রিল্যান্সিং বলতে আমরা বুঝি, ঘরে বসেই বিভিন্ন অনলাইন ভিত্তিক কাজ করা। বর্তমানে ফ্রিল্যান্সিং একটি সফল পেশা। বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম ফ্রিল্যান্সিং পেশার উপর ব্যাপকভাবে ঝুকছে। এর প্রধান কারণ হলো এটি একটি মুক্ত পেশা। এছাড়াও বাংলাদেশের বেকারত্বের তুলনায় চাকরির সংখ্যা খুবই সীমিত। শিক্ষিত হয়েও চাকরি পাওয়াটা খুবই কষ্টসাধ্য ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাছাড়া ফ্রিল্যান্সিং ঘরে বসেই আপনার নিজের সময় মত করতে পারেন এটি একটি সম্পূর্ণ মুক্ত পেশা। এখানে কারো হুকুম অনুযায়ী আপনাকে কাজ করতে হবে না। আর এই কারনেই ফ্রিল্যান্সিং এর চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলছে। অপন থেকেও উন্নত দেশগুলো ফ্রিল্যান্সিং এর দিকে বেশি আগ্রহ প্রকাশ করছে কারণ। তাদের দেশে শ্রমিকের মজুরি অনেক বেশি। তাদের কোনো কাজ করাতে হলে অনেক বেশি পরিমাণ মজুরি প্রদান করতে হয় কাজের বিনিময়। অপরদিকে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের শ্রমের মূল্য খুবই কম। আর এ কারণেই তো উন্নত দেশগুলো তাদের কাজগুলো স্বল্প সময়ে এবং স্বল্প খরচে করিয়ে নিতে পারে বলে তারাও এর উপর অধিক আগ্রহ প্রকাশ করছে।

মনে করেন আমেরিকার একজনের একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে হবে। সে যদি আমেরিকান কোন ওয়েব ডেভলপারকে দিয়ে কাজটি করাই তাহলে তাকে হাজার হাজার ডলার দিয়ে কাজটি করাতে হবে।অপরদিকে তারা যদি বাংলাদেশী কোন ফ্রিল্যান্সারকে দিয়ে কাজ করায় তাহলে তাদের স্বল্প খরচ এই কাজটি করিয়ে নিতে পারবে।

অপরদিকে বাংলাদেশের মানুষ ফ্রিল্যান্সিং পেশার দিকে আগ্রহ প্রকাশ করার কারণ হলো। বাংলাদেশের শ্রমবাজার তুলনায় তারা অধিক উপার্জন করতে পারে। যেমন বাংলাদেশী কোন ফ্রিল্যান্সার যদি ১০০০ ডলারের বিনিময় আমেরিকান কোন ওয়েবসাইট ডিজাইন করে তাহলে টাকার হিসেবে তার ইনকাম হল ৮০ হাজার টাকার উপরে। এর ফলে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে তার উপার্জন অনেক টাকা। অপরদিকে আমেরিকান ক্লায়েন্ট তার কাজটি খুব অল্প পুজিতে করাতে পারেন।

ফ্রিল্যান্সিং জগতে আসতে হলে আপনাকে যে সকল কাজ জানতে হবে তা হল, ওয়েব ডিজাইন এবং ডেভলপমেন্ট, গ্রাফিক্স ডিজাইন এগুলো হলো সবচাইতে চাহিদা সম্পন্ন কাজ। এছাড়াও বিভিন্ন ধরনের কাজ রয়েছে যেমন, ডাটা এন্ট্রি, এস ই ও, সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং ইত্যাদি নূন্যতম এর যে কোন একটি কাজ জানলেও আপনি ফ্রিল্যান্সিং জগতে আসতে পারেন। তবে যে বিষয়ে কাজ করেন না কেন তার উপর আপনার পর্যাপ্ত দক্ষতা এবং সৃজনশীলতা থাকা অবশ্যক। তা না হলে এ বিষয়ে এ পেশায় না আসাটাই ভালো।

আমাদের দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান রয়েছে যেগুলো ফ্রিল্যান্সিং বিষয়ে ট্রেনিং প্রদান করে থাকে। যারা আপনাকে কাজ এবং মার্কেটপ্লেস সম্পর্কে জানাবে। তবে এ পথে অনেক উপার্জন করা ও যেমন যায় তেমনি উপার্জন করাটাও খুব সহজ একটা ব্যাপার নয়। আপনি পথে এসেই ইনকাম করতে পারবেন না। কেননা এখানে প্রতিদ্বন্দ্বীতা অনেক কাজ একটি হলে এখানে কাজ করার লোক হাজারটি। তাহলে বুঝতেই পারছেন কাজ পেতে হলে আপনাকে কতটা সাধনা করতে হবে। কাজ করতে হলে প্রথমে কাজ এবং মার্কেটপ্লেস সম্পর্কে সম্পূর্ণ ধারণা থাকতে হবে। এবং যথেষ্ট পরিশ্রম করতে হবে। তবে মার্কেটপ্লেসে একবার প্রতিষ্ঠিত হতে পারলে আপনি যথেষ্ট পরিমান ইনকাম করতে পারবেন। এর জন্য প্রয়োজন ধৈর্যের।

ফ্রিল্যান্সিং মূলত দুই ধরনের অনলাইন এবং অফলাইন। তবে অনলাইন কাজের সংখ্যাই বেশি।ফ্রিল্যান্সিং করতে আপনি প্রথমে আপনার কাঙ্ক্ষিত কাজটি নির্বাচন করুন। ভালো কোনো প্রতিষ্ঠানে থেকে ট্রেনিং নিন। প্রাক্টিস করুন যখন মনে করবেন আপনি যথেষ্ট দক্ষতা সম্পন্ন হয়েছে এর পরেই মার্কেটপ্লেসে যোগ দেওয়ার কথা চিন্তা করুন। প্রথমেই অর্থ উপার্জনের কথা ভাবা যাবে না। যদি আপনি ভেবে থাকেন আপনি দুই মাস কাজ শিখেই অর্থ উপার্জন শুরু করে দেবেন। তাহলে সেটি আপনার ভুল ধারণা এবং ফ্রিল্যান্সিং তাহলে আপনার জন্য নয়। ধৈর্য ধরে কাজ করলে সফলতা অবশ্যই পাবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *