বাংলাদেশের শিশু দিবস নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা

আপনারা হয়তো মাঝে মাঝে অবাক বোধ করেন এই ভেবে যে, আসলেই বাংলাদেশের শিশু দিবস কবে কিংবা বছরে এতবার কেন শিশু দিবস পালন করা হয়??

হ্যাঁ, আজকে আমরা এই বিষয় নিয়েই বিস্তারিত জানার চেষ্টা করবো। আর সম্পূর্ণভাবে বিষটি বুঝতে হলে , পুরো আর্টিকেলটি মন দিয়ে পড়ুন।

তবে চলুন প্রথমেই জেনে আসা যাক-

কবে ও কোথায় পালিত হয় ?  

পৃথিবীতে প্রথম শিশু দিবসের ধারণা দেয় ম্যাসাচুসেটস ইউনিভার্সালিস্ট এবং চার্চ অভ দ্যা রিডিমারের একজন যাজক।যার নাম রেভারেন্ড ড.চার্লস লিওনার্ড। ১৮৫৭ সালে জুনের দ্বিতীয় রবিবার তিনি শিশুদের জন্য ‘রোজ ডে’ নামে একটি অনুষ্ঠান করেন। পরবর্তীতে তা ফ্লাওয়ার ডে এবং কালক্রমে নামকরণ করা হয়েছে শিশু দিবস।

তবে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বে প্রথম শিশু দিবস পালিত হয় তুরস্কে ১৯২০ সালের ২৩ এপ্রিল।

কিন্তু বর্তমানে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত শিশু দিবস ২০ নভেম্বর।

 

বিভিন্ন দেশের শিশু দিবস পালনের বৈচিত্র্যতা- 

আন্তর্জাতিকভাবে ২০ নভেম্বর  বিশ্ব শিশু দিবস হিসেবে স্বীকৃত হলেও পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ এই দিনটিকে বছরের আলাদা আলাদা একটি নির্দিষ্ট দিনে পালন করে থাকে। যেমনঃ রাশিয়া কিংবা চীনসহ বিশ্বের অধিকাংশ সমাজতান্ত্রিক দেশ ১ জুন বিশ্ব শিশু দিবস হিসেবে পালন করে থাকে। ভারতে ১৪ই নভেম্বর আর পাকিস্তানে ১লা জুলাই শিশু দিবস হিসেবে পালন করা হয়। তেমনি বাংলাদেশে বিশ্ব শিশু দিবস পালন করা হয় অক্টোবর মাসের প্রথম সোমবার।

বাংলাদেশের  শিশু দিবস এর যাত্রা কীভাবে শুরু হয়?

প্রথম থেকেই প্রতি বছর বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক শিশু দিবস পালন করা হলেও আমাদের জাতি হিসেবে নিজস্ব কোনো শিশু দিবস ছিল না। ১৯৯৬ সালে আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর শেখ হাসিনার মন্ত্রীসভা বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনকে উৎসর্গ করে ১৭ই মার্চ দেশের জাতীয় শিশু দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। এরপরের বছর ১৯৯৭ সালের ১৭ই মার্চ প্রথম জাতীয় শিশু দিবস পালন করা হয়। এই দিনটিকে শিশু দিবস ঘোষণার পেছনে কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, বঙ্গবন্ধু কখনো নিজের জন্মদিন পালন করতেন না। এই দিনটি তিনি শিশুদের সাথে কাটাতে পছন্দ করতেন। আর শিশুরা দল বেঁধে তাঁকে শুভেচ্ছা জানাতে আসত। এসব সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে ১৭ই মার্চকে জাতীয় শিশু দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। তবে উল্লেখ যে, ২০০২-২০০৮ বি এন পি এর সময়কালে ১৭ মার্চ শিশু দিবস হিসেবে পালন করা হয় নি। এই সময়ে জিয়াউর রহমানের জন্মদিন ১৯ জানুয়ারি জাতীয় শিক্ষক দিবস হিসেবে পালন করা হয়েছিল।

দেশে প্রতিবছর এতবার শিশুদিবস কেন পালিত হয়ঃ

আগেই বলেছি, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ বছরের বিভিন্ন দিনে শিশু দিবস পালন করে থাকে। আর আন্তর্জাতিক হিসেবে বাংলাদেশে অক্টোবর মাসের প্রথম সোমবার  বিশ্ব শিশু দিবস এবং শিশু অধিকার সপ্তাহ পালন করা হয়। আবার জাতিসংঘ ঘোষণা অনুযায়ী ২০ নভেম্বর এও দেশে বিশ্ব শিশু দিবস পালন করা হয়। এছাড়া ১ জুন আন্তর্জাতিক শিশু দিবস হিসেবে পালিত হয়।

আর তাছাড়া ১১ই অক্টোবর সারা বিশ্বে আন্তর্জাতিক কণ্যা শিশু দিবস তো রয়েছেই। আবার এসবের পাশাপাশি ১৭ ই মার্চ দেশের জাতীয় শিশু দিবস হিসেবে পালন করা হয়। আর তাই সারাবছর মোটের উপর আমরা পাঁচ বারের মত শিশু দিবসের কথা শুনি।তাহলে এবার আপনিই বলুন, দেশে প্রতিবছর কেন এত এত শিশু দিবস পালিত হয়?? আশা করি, উত্তরটি আপনি পেয়ে গেছেন।

শিশু দিবস আমাদের কী শেখায়?

বছরে যে এই এতবার শিশু দিবস পালন করা হয়, তার কিন্তু একটাই মোদ্দা কথা। আর তা হলো শিশুদের অধিকার এবং ভবিষ্যত সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করে তোলা।কিন্তু একবার ভেবে দেখুন তো, জাতি হিসেবে আজ আমরা শিশুদের অধিকার সম্বন্ধে আসলেই কতটা সচেতন? একবার শহরের ফুটপাতের অলিগলিগুলোর দিকে তাকালেই বোঝা যায় আমাদের শিশু অধিকার সচেতনতার প্রকৃত প্রতিচ্ছবি। আজও দেশের লক্ষ লক্ষ শিশুরা শিক্ষার ছায়াতল থেকে বঞ্চিত। আজও সুজনের মত অনেক শিশু ইটের ভাঁটায় কাজ করে শুধু দু’বেলা ঠিকমতো খেতে পায় না বলে। কেন?? আমরা কি পারি না, শিশু দিবসের চেতনাকে লালন করে এসব শিশুদের পাশে দাঁড়াতে???  তবেই না আমদের বাংলাদেশ একদিন সোনার বাংলাদেশে পরিণত হবে!

About the Author:

I am Habib , I am expert in covering all latest bangladeshi news. I cover all national and latest news of bangladesh in this news site bdtip.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!