বাচ্চাদের ভিডিওগেম খেলার ভালো এবং খারাপ দিক

বর্তমান যুগ হচ্ছে প্রযুক্তির যুগ। আর এরই ধারাবাহিকতায় আমাদের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ছোঁয়া। খেলাধুলা হয়ে উঠেছে এখন প্রযুক্তি নির্ভর। এখন আর খেলাধুলা করতে মাঠ বা খেলার সাথীর   প্রয়োজন পড়ে না।কারন বর্তমানে যে রকম উন্মুক্ত খেলার মাঠ নেই তেমনি বাচ্চাদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহের কমতি রয়েছে।এর প্রধান কারন হচ্ছে তারা ছোট থেকেই মোবাইল ফোন এবং কম্পিউটারের ভিডিও গেমে অভ্যস্ত হয়ে ওঠে।তাই তারা বাস্তব খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলে।আসুন তাহলে ভিডিও গেমের ভালো এবং খারাপ দিক নিয়ে আলোচনা করা যাক।

ভিডিও গেমের ভালো দিকঃ

ভিডিও গেম খেলতে হলে এবং এ লেভেল করতে হলে খুব দক্ষতার সাথে খেলতে হয়। এমন যার জন্য প্রয়োজন পড়ে চিন্তা ধারার এবং প্লানিংয়ের। কিছু কিছু গেম আছে যেগুলো খুলতে হলে অনেক চিন্তার প্রয়োজন হয়। যেমন গেমের লেভেল পার করতে হলে অনেকগুলো ধাপ তাকে অতিক্রম করতে হয় এবং প্রতিটি ধাপে আসে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ। শুধুমাত্র এই চ্যালেঞ্জ গুলো চিন্তা করে তারপর এর সমাধান করতে হয়। যা বাচ্চাদের চিন্তা করার শক্তি কে বৃদ্ধি করে। এবং এই লেভেলগুলো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পার না করতে পারলে হবে না। আরেকটি বাচ্চাদের চিন্তাধারাকে দ্রুততর করে তুলে। এবং বাস্তবতা তারা এরূপ চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হলে। তা দ্রুত  মোকাবেলার শক্তি অর্জন করে।

ভিডিও গেম এর মাধ্যমে বাচ্চারা প্রযুক্তি বিষয়ে জ্ঞান লাভ করে। তারা প্রযুক্তি বিষয়ে একটি হাতে কলমে শিক্ষা পায়। যা ভিডিও গেমের একটি ভালো দিক।

ভিডিও গেম খেলার কারণে বাচ্চারা কম্পিউটার ব্যবহারে পারদর্শী হয়ে ওঠে। যা একটি ভাল বিষয়। কারণ বর্তমান যুগ হচ্ছে বিজ্ঞানের যুগ। আর কম্পিউটার হচ্ছে বিজ্ঞানের একটি অন্যতম অবদান। তাই আধুনিক যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে প্রতিটি মানুষেরই কম্পিউটারে পারদর্শী হওয়া জরুরী। ছোটবেলা থেকে কম্পিউটার চালানোর মাধ্যমে তারা খুব ভালোভাবে এবং খুব সহজে কম্পিউটারের সকল বিষয় কে আয়ত্তে আনতে পারে। কারণ বাচ্চাদের মস্তিষ্কে তার আগ্রহের সাথে যা প্রবেশ করানো হয় তা তার ভালোভাবে মনে থাকে।

এরপর আসে বিনোদনের বিষয়। বর্তমানে কোন বাচ্চা যদি চায় খেলাধুলা করতে। তবু তা সম্ভব হয়ে ওঠে না। কারণ বর্তমানে খেলাধুলার পরিবেশের খুব অভাব। খেলার মাঠ এখনকার সময়ে খুব কমই দেখা যায়। এছাড়া শহরের অধিকাংশ স্কুলে বা এলাকায় খেলার মাঠ নেই। তাই কোন না কোনভাবে তো বাচ্চাদের বিনোদনের ব্যবস্থা করতে হবে। কারণ সুস্থভাবে এবং স্বাভাবিক ভাবে বাঁচতে হলে একজন মানুষের মধ্যে বিনোদনের প্রয়োজনীয়তা অনেক। বাচ্চাদের ক্ষেত্রে তো আরো বেশি। তাই ভিডিওর মাধ্যমে বাচ্চাদের বিনোদনের অভাব পূরণ করা সম্ভব।

ভিডিও গেমের ক্ষতিকর দিকঃ

যে সকল জিনিস এর ভালো দিক রয়েছে তার ক্ষতিকর দিক এর সংখ্যাও কম নয়। ভিডিও গেমের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম নয়। ভিডিও গেম অতিরিক্ত খেলার ফলে বাচ্চাদের স্বাভাবিক চিন্তাশক্তি লোপ পায়। তারা সব কিছুকেই ভিডিও গেম এর মত করে কল্পনা করতে থাকে। যা তাকে বাস্তব জীবন থেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে যায়। এছাড়া ভিডিও গেমের একটি খারাপ দিক হলো। এটি মানুষের ভিতরে আসক্তি তৈরি করে ফেলে। যার ফলে বাচ্চাদের লেখাপড়ার এবং অন্যান্য কাজের ক্ষতি হয়। অনেক সময় এমনটা হয় বাচ্চাদের লেখাপড়া খাওয়া দাওয়া বাদ দিয়ে সারা দিন ভিডিও গেম নিয়ে পড়ে থাকে। এটি মোটেও কোন ভাল বিষয় নয়। বাচ্চাদের সুস্থ স্বাভাবিক শারীরিক এবং মানসিক বিকাশের জন্য খেলাধুলার কোন বিকল্প নেই। কিন্তু তারা অতিরিক্ত ভিডিও গেম খেলার কারণে খেলাধুলার প্রতি মনোযোগ হারিয়ে ফেলে। তখন তাদের খেলাধুলার সুযোগ থাকলেও তারা খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী থাকে না।

তাই আমাদের সকলের উচিত এসকল বিষয়ে জানা এবং বাচ্চাদের নিয়ন্ত্রণ করা। যাতে করে তারা ভিডিও গেম খেলবে ঠিক আছে কিন্তু এর উপর আসক্ত হয়ে না পড়ে। আমাদের সকলের উচিত বাচ্চারা মোবাইল ফোন কম্পিউটার চালাচ্ছে কিন্তু এর ভিতর দিয়ে এর সঠিক ব্যবহার হচ্ছে কিনা। বা এর ভুল ব্যবহার হচ্ছে কিনা সে বিষয়ে খেয়াল রাখা। তা না হলে অনেক বড় ক্ষতি হতে পারে।

About the Author:

I am the main editor of Bd Tip. I write Health, Technology and Business related article in this website.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!