বিটকয়েন মাইনিং কি এবং কিভাবে বিটকয়েন মাইনিং করতে হয়

বিটকয়েন হচ্ছে একটি ক্রিপ্টোকারেন্সি।  এটি একটি ভার্চুয়াল মুদ্রা। এর বাস্তবিক কোন রূপ নেই। আপনি বাস্তবে এটি ধরতে বা ছুঁতে পারবেন না। কারণ এর অস্তিত্ব শুধু ভার্চুয়াল জগতে বাস্তবে এর কোন অস্তিত্ব নেই। তবে আজ চোখের অস্তিত্ব না থাকলেও এর মূল্য অনেক। যে কোন দেশের মুদ্রার চাইতে অধিক মূল্যবান। এটি পেয়ার টু পেয়ার মুদ্রা নামে পরিচিত। কারণ এটি কোন প্রতিষ্ঠান দ্বারা পরিচালিত হয় না। লেনদেনের ক্ষেত্রে কোন প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন পড়ে না এক গ্রাহকের অন্য গ্রাহকের কম্পিউটারে সরাসরি স্থানান্তরিত হয়।

তবে আজকে আমরা বিটকয়েন মাইনিং সম্পর্কে জানব। আমি বিষয়টি আপনাদের সম্পূর্ণরূপে বুঝাতে না পারলেও এ বিষয়ে যথেষ্ট ধারণা দেয়ার চেষ্টা করবো। বিটকয়েন মাইনিং মূলত এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে এক গ্রাহকের কম্পিউটার থেকে অন্য কম্পিউটারে স্থানান্তর করার সময় লেনদেনটিকে সম্পন্ন করার জন্য একটি তৃতীয় পক্ষের প্রয়োজন পড়ে।এটি বিশেষ একটি প্রক্রিয়ায় কম্পিউটার দ্বারা এই লেনদেন বিশেষ পদ্ধতিতে লিপিবদ্ধ করে। এতে বিভিন্ন জটিল সমস্যার সমাধান করতে হয়। এবং অনেক জটিল গাণিতিক সমস্যার সমাধান করতে হয়। তবে এটি শুনতে অনেকটা সহজ হলেও বাস্তবে তা নয় তবে আমরা একটি কম্পিউটার কে দিয়ে কাজটি সম্পন্ন করি বলে বুঝতে পারি না এটি কত কঠিন। আর এটি বিটকয়েন মাইনিং নামে পরিচিত। তবে এটি যদি লেনদেনের সমাধানই হয় তাহলে কেন এটিকে আমরা মাইনিং বলবো?এই প্রশ্নের উত্তর হচ্ছে প্রতিটি লেনদেনের হলে নতুন করে বিটকয়েন এর উৎপত্তি হয় যার থেকে  একটি অংশ মাইনার অর্থাৎ যে মাইনিং এর কাজটি করেছে সে পায়। আর এ কারণেই থেকে বিটকয়েন মাইনিং নাম দেওয়া হয়েছে। আর এ কাজটি করতে প্রয়োজন পড়ে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটারের।  তবে এই কাজটি করতে এতটাই উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটার এর প্রয়োজন পরে যে ভালো মানের গেমিং কম্পিউটার এর জন্য যথেষ্ট নয়। আর এ জন্যই এ কাজে ব্যবহৃত হয় জিপিউ। আর তাই বিভিন্ন কোম্পানি শুধুমাত্র বিটকয়েন মাইনিং এর জন্য তৈরি করেছে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন জিপিইউ। যেটা শুধুমাত্র বিটকয়েন মাইনিং এর কাজে ব্যবহৃত হয়।

আপনি যদি চান নিজেও বিটকয়েন মাইনিং করতে পারেন। তবে জন্য আপনার ভাল মানের কম্পিউটার থাকলেও আশানুরূপ ফল লাভ করতে পারবেন না। আপনি চাইলে বিভিন্ন কোম্পানির থেকে বিটকয়েন মাইনার ক্রয় করে তা দিয়ে  বিটকয়েন মাইনিং করতে পারেন। তবে এর খরচটা খুব কম নয়।

উপরের ছবিতে দেখতে পাচ্ছেন এটি একটি বিটকয়েন মাইনার যন্ত্র। এটা দিয়ে বিটকয়েন মাইনিং এর কাজ করা হয়।

তবে যদি ভেবে থাকেন এই যন্ত্রটি কিনবেন এবং বিটকয়েন মাইনিং করে লাখপতি হয়ে যাবেন। তাহলে সেটাই আপনার ভুল ধরণা হবে। কারণ যন্ত্রটি কিনতে এবং সেট করতে আপনাকে অনেক টাকা খরচ করতে হবে। এবং এতে প্রচুর পরিমাণে বিদ্যুৎ খরচ করে। তাই এগুলো যেখানে বিদ্যুতের মূল্য কম সেখানে সেটাপ না করলে আপনি লাভবান হতে পারবেন না। এটি যে পরিমাণ বিদ্যুৎ খরচ করে সে তুলনায় আপনি আয় করতে পারলে আপনি লাভবান হবেন বলে আশা করা যায়। আমি ব্যক্তিগতভাবে আপনাকে কখনই বিটকয়েন মাইনিং এর কাছে উৎসাহিত করবো না। কারণ বিটকয়েন বা ক্রিপ্টোকারেন্সি বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক সম্পূর্ণ অবৈধ। তাই এটা নিয়ে আপনি কোন সমস্যায় পড়লে আইনি সহযোগিতা পাবেন না।

এরপর আসা যাক আরেকটি বিষয় যেখানে আপনি ব্যক্তিগতভাবে বিটকয়েন মাইনিং যন্ত্র না কিনেই থার্ড পার্টি মাইনারদের মাধ্যমে বিটকয়েন মাইনিং করতে পারেন।এখানে আপনি নির্দিষ্ট পরিমান বিনিয়োগ করে তার থেকে মুনাফা গ্রহণ করতে পারেন।

মনে করুন আপনি ২০০ ডলার বিনিয়োগ করেছেন ছয় মাসের জন্য যেখান থেকে ৫০  ডলার করে আপনাকে প্রতি মাসে প্রফিট দেবে। এর থেকে আপনি ২০০ ডলার ইনভেস্ট করে ছয় মাসে ৩০০ ডলার করলেন। অর্থাৎ আপনার আসল ২০০ ডলার বাদে বাকি ১০০ ডলার লাভ হলো।

তবে অধিকাংশ ক্লাউড মাইনিং সাইট গুলো স্ক্যাম করে টাকা নিয়ে চলে যায়। অল্প কিছু ওয়েব সাইট আছে যারা সত্যিকারে প্রফিট দেয়। তবে তারাও চেয়েছিলাম করবে না তার কোন নিশ্চয়তা নেই। এর জন্য ক্লাউড মাইনিং বিষয় না জড়ানো টাই বুদ্ধিমানের কাজ বলে আমি মনে করি। এর পরেও আপনি যদি বিটকয়েন মাইনিং এর কাজ করতে চান তবে একটি পরামর্শ দেবো যে ভেবেচিন্তে এবং হিসাব করে এ বিষয়ে পা বাড়াবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *