বিশুদ্ধ পানির অপর নাম জিবন

আমাদের শরীরের ৭০ ভাগই হচ্ছে পানি। একজন মানুষকে সুস্থ ও সুন্দরভাবে বাঁচতে হলে প্রচুর পরিমাণে পানি পান করা উচিত তবে সেখান হতে হবে অবশ্যই বিশুদ্ধ এবং বিভিন্ন ধরনের বিষাক্ত পদার্থ মুক্ত।

আমাদের চারপাশে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পানির উৎস। কারণ পৃথিবীর মোট চার ভাগের তিন ভাগই হচ্ছে পানি। এর অর্থ হলো স্থল ভাগের থেকে পানির পরিমাণ তিনগুণ বেশি। তাহলে এই থেকে বোঝা যায় আমাদের পৃথিবীতে পানির কোন অভাব নেই কিন্তু সমস্যাটা হচ্ছে মানুষ যে কোন পানি পান করতে পারে না। আমাদের পৃথিবীর অনেক অধিকাংশ উৎসই হচ্ছে পানের অযোগ্য পানি দ্বারা পরিপূর্ণ। পানির সবচাইতে বড় উৎস হচ্ছে সমুদ্র। তবে সমুদ্রের পানি পান করার অযোগ্য। এর অর্থ পৃথিবীর পানির প্রধান উৎস হচ্ছে পানের অযোগ্য পানি দ্বারা পরিপূর্ণ। এই বিশাল পরিমান পানির মধ্যে পানের যোগ্য পানির পরিমাণ খুবই সীমিত।

আমাদের চারপাশে খাল বিল নদী নালা পুকুর ডোবা ইত্যাদি কত উৎস রয়েছে পানের কিন্তু আমরা সকলে উৎস থেকে পানি পান করতে পারেনা আমাদের পানি পান করতে হলে অবশ্যই গভীর নলকূপের পানি পান করতে হয় অথবা বৃষ্টির পানি পান করতে হয়। কারণ গভীর নলকূপ এবং বৃষ্টির পানি ছাড়া বাকি সকল উৎসল পানি হচ্ছে জীবাণুযুক্ত ও খাবার অযোগ্য পানি দ্বারা পূর্ণ। এসকল পানি পান করলে আমাদের বিভিন্ন ধরনের পানিবাহিত রোগ হতে পারে। যেমন ডায়রিয়া আমাশয় পেটে ব্যথা ছাড়াও অনেক জটিল রোগ পর্যন্ত হতে পারে এই জীবাণু যুক্ত পানি পান করার ফলে।

এ কারণেই আমাদের পানি বিশুদ্ধ উৎস থেকে গ্রহণ করতে হবে অথবা পানির উৎস গুলো থেকে আমরা যে পানি সংগ্রহ করি তার সম্পূর্ণরুপে জীবাণুমুক্ত করে তারপর এই পান করা। পানি বিশুদ্ধ করার জন্য রয়েছে বিভিন্ন উপায় যেমন পানি ফুটানো। পানি ফুটানোর ফলে ভারতে থাকা রোগজীবাণু ধ্বংস হয়ে যায় যার ফলে পানি পান করলে আমাদের পানিবাহিত রোগের আশঙ্কা অনেক গুণ কমে যায়। এছাড়া মামলা পানি বিশুদ্ধকরণ ঔষধ ব্যবহার করে পানিকে বিশুদ্ধ করে তুলতে পারি।হ্যালোজেন ট্যাবলেট এবং ক্লোটেক সলিউশন ব্যবহার করেও পানি বিশুদ্ধ করা যায়। ১৫ মিলিগ্রামের দুটি হ্যালোজেন ট্যাবলেট অথবা ৩২ ফোঁটা ক্লোটেক সলিউশন ১০ লিটার (এক কলসি) পানিতে মিশিয়ে আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা পরে পান করুন। এছাড়া ফিল্টার ব্যবহারের মাধ্যমে পানি বিশুদ্ধ করা যায়। তবে এক্ষেত্রে ফিল্টার নিয়মিত পরিষ্কার করতে হয় কারণ ফিল্টার একাধারে বেশি দিন ব্যবহারের ফলে ফিল্টারের ভেতরের রোগ জীবাণু বাসা বাঁধে এবং অসুখে সৃষ্টি করে।

তাই এসকল টিপস আপনাকে অবশ্যই গ্রহণ করা উচিত।এবং পানি বিশুদ্ধকরণ উপায় অবলম্বনের ফলে আমাদের পানিবাহিত সমস্যা থেকে রেহাই পাওয়া সম্ভব হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *