ভিডিও গেইম খেলার উপকারী দিকগুলো

ভিডিও গেম এর উপকারিতা কথাটি শুনে অবশ্যই আপনি অবাক হচ্ছেন? কেন না এতদিন শুনে এসেছেন ভিডিও গেম আমাদের জন্য ক্ষতিকর। এমনকি ভিডিও গেমের ক্ষতিকর দিক নিয়ে আমাদের সাইটে অনেক পোষ্ট হয়েছে। তাহলে আবার ভিডিও গেমের উপকারিতার কথা লিখছি কেন! আসলে যে সকল জিনিস এর ক্ষতিকর দিক রয়েছে তার কিছু কিছু উপকারী দিকও থাকে। আজ আমরা ভিডিও গেইমের উপকারিতা সম্পর্কে জানব।

চোখের দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি পেতে পারে-

শুনে অবশ্যই অবাক হচ্ছেন কারণ আমরা এতদিন শুনে এসেছি কম্পিউটার বা মোবাইলের স্ক্রিন আমাদের চোখের জন্য ক্ষতিকর। কেননা এর থেকে নির্গত হওয়া ক্ষতিকর আলোক রশ্মি আমাদের চোখের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে। কিন্তু তাহলে এটি আমাদের চোখের দৃষ্টি শক্তি বৃদ্ধি করে কিভাবে! ভিডিও গেমের চোখের কোন ক্ষতি কম হওয়ার কারণ হলো ভিডিও গেমের কন্ট্রোলারের মাধ্যমে অনেক দূর থেকেও গেম খেলা সম্ভব হয়। আর গেম খেলতে হলে আপনাকে অবশ্যই স্ক্রিনের সবকিছুর উপরে নজর দিতে হবে। মনে করেন আপনি অ্যাকশন বা ফাইটার গেম খেলেন তাহলে আপনাকে বিভিন্ন দিক থেকে আক্রমণ করা হবে। তাই সমস্ত শত্রু কে খুঁজে বের করার জন্য আপনার চোখকে সর্বাধিক কাজে লাগিয়ে থাকেন। এর ফলে আমাদের চোখের দৃষ্টিশক্তি উন্নত হয় এবং এটি আপনি বাস্তবিক ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করতে পারেন। হাঁটাচলা এবং পারিপার্শ্বিক সব বিষয়বস্তুর উপরেই আপনি এই অভিজ্ঞতা প্রয়োগ করতে পারবেন।

ভিডিও গেম আপনাকে দৈহিকভাবে আরো একটিভ করে তুলতে সাহায্য করে-
ভিডিও গেম একসাথে আমাদের শারীরিক একটি ভিত্তি দেখতে চমৎকার সম্পর্ক রয়েছে। কারণ ভিডিও গেম খেলার ফলে আমাদের শারীরিক এক্টিভিটি বেড়ে যেতে পারে।
এছাড়াও বর্তমান সময়ে গেমিং এর সাথে শারীরিক দিকও জড়িত রয়েছে যেমন উই ফিট,গিটার হিরো,জাস্ট ডান্স ইত্যাদি সকল ধরনের গেম যেগুলো আমাদের খেলার সময় শারীরিক মুভমেন্টের ও প্রয়োজন পড়ে। বর্তমান সময় খেলার জায়গার খুব সংকট। গ্রামে খেলার জায়গা থাকলেও শহরে খেলার মতো ফাঁকা জায়গা পাওয়া খুবই দুষ্কর। সে ক্ষেত্রে বাচ্চাদের জন্য চমৎকার ফলদায়ক হতে পারে এ সকল গেমগুলো। কেননা সকল গেমগুলোর মাধ্যমে শিশুদের শারীরিক ব্যায়ামের কাজ হবে। আবার মানসিক বিকাশও ঘটবে।

সৃজনশীলতা বৃদ্ধিতে সহায়ক ভিডিও গেম-ভিডিও গেম যে আমাদের সৃজনশীলতা কে বৃদ্ধি করতে সহায়ক এটি অনিস্বীকার্য । যেকোন ভিডিও গেম আপনার সৃজনশীলতাকে বাড়িয়ে তুলবে। মনে করুন আপনি কোন সার্ভাইবল গেম খেলবেন। সে ক্ষেত্রে আপনাকে গেইমের মিশন কমপ্লিট করতে হলে অবশ্যই সংগ্রাম করতে হবে। এখানে বিভিন্ন প্রতিকূলতা সৃষ্টি করা হবে।যা আপনাকে অতিক্রম করতে হবে। এছাড়া যেসকল গেম মাল্টিপ্লেয়ার সেখানে অন্যদের সাথে আপনার সংগ্রাম করে বাঁচতে হবে এবং কে হবে বিজয়ী এই চিন্তায় আপনি সব সময় আপনার চিন্তা শক্তিকে সর্বচ্চ স্তরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এবং গেইমের মিশন কমপ্লিট করেন।
এসকল ক্ষেত্রে আপনার মানসিক এবং সৃজনশীল বুদ্ধিমত্তার বিকাশ ঘটে। যা পরবর্তী সময়ে আপনাকে একজন সৃজনশীল ব্যক্তি হিসেবে তৈরি করে। এবং আপনার সৃজনশীল বুদ্ধিমত্তা আপনি আপনার বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করতে পারেন।

গেম দূর করতে পারে আপনারা একাকীত্ব-
আমরা অনেকেই আছি যারা অনেক একাকিত্ব অনুভব করেন এবং একটি সুন্দর সময় কাটানোর মত বন্ধু-বান্ধব বা নিকটজন খুঁজে পান না। তাদের জন্য যে চমৎকার সমাধান হচ্ছে এই গেইমের পৃথিবী। কারণ ভিডিও গেম খেলার ফলে আপনার একাকিত্ব দুর হবে। মানসিক দুশ্চিন্তা দূর হবে। কারণ যখন আপনি গেম খেলবেন তখন সম্পূর্ণ মনোযোগ আপনার গেইমের উপর চলে যাবে এবং আপনি কোন দুশ্চিন্তা করার সময় পাবেন না।

আপনার স্মৃতিশক্তি প্রখর করতে সহায়তা করে-
অনেক গেইম আছে যেগুলো আমার স্মৃতিশক্তিকে প্রখর করতে সহায়তা করে। এরমধ্যে কিছু গেম আছে যেগুলো আমাদের গণিতের সমস্যা সমাধান করে।আবার ইংরেজি ওয়ার্ড শিখার মত অনেক গেম আছে। যেগুলোর দ্বারা আপনি খেলার ছলে ছলে বিভিন্ন কিছু শিখতে পারবেন। এবং এসকল আমাদের স্মৃতিশক্তিতে বেশিক্ষণ দীর্ঘস্থায়ী হয়।

উপরোক্ত বিষয়গুলো হচ্ছে ভিডিও গেম এর উপকারী দিক।তবে আমি কখনোই বলবো না যে, তার জন্য আপনি ভিডিও গেমের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়েন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *