মোবাইল দিয়ে কি ফ্রিল্যান্সিং করা সম্ভব

ফ্রিল্যান্সিং হচ্ছে অনলাইনে কাজের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করা। বিভিন্ন কাজের মাধ্যমে অনলাইন থেকে অর্থ উপার্জন করা যায়। যেমন ওয়েব ডিজাইন এবং ডেভলপমেন্ট, গ্রাফিক্স ডিজাইন, সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং ইত্যাদি করে অনলাইন থেকে ইনকাম করা সম্ভব। এছাড়াও আরো অনেক উপায় রয়েছে যেগুলোর মাধ্যমে ইনকাম করা যায়। যেমন ব্লগিং, আর্টিকেল রাইটিং, পিটিসি বা অ্যাডক্লিক সাইট ইত্যাদি কাজের মাধ্যমে অনলাইন থেকে ইনকাম করা যায়। ফ্রিল্যান্সিং করতে হলে আপনাকে কোন বিশেষ বিষয়ের উপর জ্ঞান থাকতে হবে। শুধুমাত্র ইনকাম করা কে এই ফ্রিল্যান্সিং বলা হয় না। আপনি চাইলে পিটিসি বা অ্যাডক্লিক সাইটে এবং বিভিন্ন অ্যাপস কাজ করেও ইনকাম করতে পারেন। এগুলো করে নিজেকে ফ্রিল্যান্সার ভাবা অত্যন্তই বোকামি। কারন এগুলো করে আপনি কখনোই ক্যারিয়ার গড়তে পারবেন না। এবং এই কাজগুলো আজ আছে কাল থাকবে না। তাই এগুলো ফ্রিল্যান্সিং এর আওতায় পড়ে না।

এরপর আসে মোবাইল দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং করার কথা। মোবাইল দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং করা আসলে সম্ভব নয়। কারণ একটি মোবাইল কখনোই একটি কম্পিউটারের সমান কাজ করতে পারে না। সে ক্ষেত্রে যত দামি মোবাইলে হোক না কেন। যদি একটি মোবাইল একটি কম্পিউটারের সমান কাজ করতে পারতো তাহলে কেউই মোবাইল রেখে এখন আর কম্পিউটারে কাজ করত না। অনেকগুলো কাজ আছে যেগুলো মোবাইলের দ্বারা করা সম্ভব না। তাই আপনাকে ফ্রিল্যান্সিং করতে হলে প্রফেশনাল মানের কাজ শিখতে হবে এবং অবশ্যই কাজ করতে হলে আপনাকে একটি কম্পিউটারের সাহায্য নিতে হবে।

মোবাইল দিয়ে আপনি যে সকল কাজ করতে পারবেন তা হল আর্টিকেল রাইটিং সাধারণ ফটো এডিটিং এবং পিটিসি সাইটে কাজ করতে পারবেন। তবে বর্তমানে আর্টিকেল রাইটিং এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। আর্টিকেল রাইটিং এর উপর অনেক জব পোস্ট করা হয় প্রফেশনাল মার্কেটপ্লেসগুলোতে। তবে প্রফেশনাল মানের আর্টিকেল রাইটিং করাটাও কষ্টসাধ্য মোবাইল এর মাধ্যমে। কারণ কম্পিউটারে আপনি যত সহজে টাইপিং এবং সুন্দর ভাবে পোষ্টটি লিখতে পারবেন মোবাইল দিয়ে কত সুন্দর ভাবে করতে পারবেন না। ফটো এডিটিং এর অনেক কাজ পাওয়া যায় মার্কেটপ্লেসগুলোতে কিন্তু মোবাইল দিয়ে প্রফেশনাল মানের ফটো এডিটিং সম্ভব নয়।

তাই আমরা থেকে সুস্পষ্টভাবে বুঝতে পারি যে মোবাইল দিয়ে মূলত ফ্রিল্যান্সিং সম্ভব নয়।আপনি হয়তো সামান্য কিছু উপার্জন করতে পারবেন মোবাইল দিয়ে। তবে তা কখনোই আপনার ক্যারিয়ার গড়তে কাজে আসবে না।

তাই ফ্রিল্যান্সিংকে ক্যারিয়ার হিসাবে নিতে হলে আপনাকে প্রফেশনাল কাজ কেমন ওয়েব ডিজাইন অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট গ্রাফিক্স ডিজাইন ইত্যাদি শিখতে হবে। যেগুলো মোবাইল দ্বারা কখনোই সম্ভব নয়।

তাই আমি আপনাদের পরামর্শ দেই ফ্রিল্যান্সিংকে যদি ক্যারিয়ার হিসেবে নিতে চান। তাহলে প্রফেশনাল মানের কাজ শিখুন এবং নিজেকে দক্ষ করে গড়ে তুলুন। এবং পিটিসি এবং এক ক্লিকে সমস্ত কাজ থেকে বিরত থাকুন। এগুলো শুধুমাত্র আপনার সময় নষ্ট করবে। আপনি মাস শেষে হিসাব করে দেখুন আপনি যে কয় টাকার মোবাইল ডাটা খরচ করেছেন তার থেকে সামান্য কিছু বেশি ইনকাম করেছেন কিন্তু সময়টা হিসাব করলে আপনি বুঝতে পারবেন এইগুলো আসলে আপনার সময়কে নষ্ট করেছে এর  বাহিরে কোন ফলে আপনি পাননি।

তবে ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার হিসাবে না নিয়ে. যদি আপনি সাময়িক হাত খরচের জন্য এটা কি বেছে নেন তাহলে আপনি এগুলো করতে পারেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *