সুস্থ থাকার কয়েকটি উপায়

কথায় আছে স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল। তাই আমাদের প্রত্যেকের উচিত স্বাস্থ্যের উপর যত্নশীল হওয়া। আমাদের সকলের উচিত সুস্থ থাকার জন্য কিছু নিয়ম কানুন মেনে চলা। সুস্থ থাকতে আমাদের আহামরি তেমন কিছুই করতে হয় না। এবং আমরা সুস্থ অবস্থায় একবারও ভাবি না এভাবে চললে আমরা সুস্থ থাকতে পারি। যখন আমাদের শরীরের বিভিন্ন প্রকার সমস্যা দেখা দেয় তখন চিন্তা করি কেন আমার নিয়মতান্ত্রিকভাবে চললাম না। শুধু একটু নিয়ম শৃঙ্খলা এবং খাদ্যাভ্যাস আমাদের জীবনকে সুস্থ রাখতে পারে। কিন্তু আমরা নিজেদের আলসেমি এবং অজ্ঞতার কারণে বিভিন্ন ধরনের জটিল সমস্যার সম্মুখীন হই। সুস্থ সবল জীবন গঠনের জন্য আমাদের যে সকল বিষয়গুলো মাথায় রাখতে হবে তা হল-

সকাল সকাল ঘুম থেকে ওঠা। আমরা প্রায় মানুষই ঘুম থেকে দেরি করে উঠি। কিন্তু দেরি করে ঘুম থেকে ওঠা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর। তাই আমাদের সকলের উচিত সকাল ছয়টার দিকে ঘুম থেকে উঠে পড়া। এছাড়া ঘুম থেকে উঠেই আমাদের তাড়াহুড়া ওরা উচিত নয় তাহলে আমাদের বিভিন্ন ধরনের ক্ষতি হতে পারে। এর কারণ হচ্ছে ঘুম থেকেও ওঠার পরেই আমাদের শরীরের কোষ গুলো স্বাভাবিক ভাবে থাকে না। তাই ঘুম থেকে উঠে তাড়াহুড়ো করলে আমাদের পিঠের মাংস বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এছাড়া ঘুম থেকে উঠেই দাঁড়িয়ে পড়া ঠিক নয় কারণ ঘুম থেকে উঠেই দাড়ালে  আমাদের রক্ত গুলো পায়ের দিকে চলে যায় অস্বাভাবিক ভাবে। যার ফলে আমাদের দেহ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই আমাদের সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠতে হবে এবং ধীরেসুস্থে বিছানা ত্যাগ করতে হবে। আবার রাতে ঘুমাতে যেতে হবে তাড়াতাড়ি। বেশি রাত জাগা স্বাস্থ্যের পক্ষে মোটেই ভালো নয়।

এরপরে সকালবেলা উঠে আমাদের কমপক্ষে দুই থেকে তিন গ্লাস পানি পান করা উচিত। এতে আমাদের শরীর সুস্থ থাকবে এবং পেটের অসুখ সহজে হবে না। সকালের নাস্তা টি আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ তাই আমাদের সকালের নাস্তা ৮ টার ভিতরে সেরে ফেলতে হবে। এবং খাওয়ার আগে বা খালি পেটে চা বা কফি জাতীয় খাবার খাওয়া উচিত নয়। ভারী নাস্তা খাওয়ার পরে চা কফি পান করা উচিত।

সকালের নাস্তা ৮ টার ভিতরে।দুপুরের খাবার ১ টার ভেতরে খাওয়া উচিত। এতে আমাদের হজম প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে চলবে এবং শরীর সুস্থ থাকবে। কারণ বেশী বেলা করে দুপুরের খাবার  খেলে আমাদের খাওয়া বেশি হয়ে যাবে । যেগুলো আমাদের শরীরের মেদ আকারে জমা হবে। এবং রাতের খাবার রাত আটটার আগে খেতে হবে। এবং রাতের খাবারে দুধ তেল চর্বি জাতীয় খাবার কম থাকাটাই শ্রেয়। কারণ এ সময়ে আমাদের হজম করার ক্ষমতা কম থাকে।

খাবার খাওয়ার সময় কখনোই জল খাওয়া উচিত নয়। এতে আমাদের খাবার হজম প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। এছাড়া প্রচন্ড ক্লান্তির কাজ করে এসেই পানি পান করবেন না। রোদ থেকে এসে পানি পান করলে আমাদের শরীরের ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। তাই রোদ থেকে এসেই পানি পান করা যাবে না।

পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় প্রচুর পরিমাণে শাকসবজি এবং ফলমূল রাখা উচিত। এবং খাদ্যের পুষ্টিগুণ এবং দেহের পুষ্টি চাহিদা বিবেচনা করে খাবার খাওয়া উচিত।

নিয়মিত ব্যায়াম করা,হাটা এবং দৌড়ানো উচিত। এতে দেহের পেশী গুলো সবল থাকে। রক্ত চলাচল বৃদ্ধি পায়। দেহের কর্মক্ষমতা বাড়ে। এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও বৃদ্ধি পায়।

এ সকল বিষয় মেনে চললে আমরা সুস্থ থাকতে পারবো। এবং খুব সহজে কোন লোক আমাদের আক্রমণ করতে পারবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *