হার্ট অ্যাটাক বা হৃদরোগ সম্পর্কে ৫ টি ভ্রান্ত ধারণা

হার্ট অ্যাটাক বা হৃদরোগ বর্তমান সময়ে দিন দিন বেড়েই চলেছে। আমাদের হার্ট অ্যাটাক বা হূদরোগ সম্পর্কে অনেক ধারণা রয়েছে। যার ফলে আমরা অনেকে মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ি। আমরা মনে করি এসকল লক্ষণগুলো হার্ট অ্যাটাকের কিন্তু মূলত কিছু কিছু লক্ষণ রয়েছে হার্ট অ্যাটাকে লক্ষণ এর সাথে মিল থাকলেও আসলে তা হার্ট এটাক এর সংকেত দেয় না।মানসিক ভাবে দুর্বল হয়ে পড়লে আমাদের যে কোন অসুখ বিসুখ খুব দ্রুতই আক্রমণ করতে পারে। আর এ কারণেই আমাদের স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন হতে হবে।

বর্তমানে বিভিন্ন কারণে হার্ট এটাক হয়ে থাকে এর মধ্যে অন্যতম একটি কারণ হলো পরিবেশ দূষণ। পরিবেশ দূষণের ফলে আমাদের একদিকে যেমন শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে তেমনি আমাদের হার্ডের উপরেও প্রভাব পড়ছে। এছাড়া হার্ট অ্যাটাকের জন্য মদ্যপান, শারীরিক পরিশ্রম না করা, কোলেস্টেরলের আধিক্য, অস্বাস্থ্যকর জীবন-যাপন ইত্যাদি অনেকাংশে দায়ী। আর এ কারণে আমাদের প্রতিদিনের জীবনযাত্রা সম্পর্কে সচেতন হওয়া উচিত। এবং পরিবেশ দূষণ রোধে সচেষ্ট থাকা উচিত।

হার্ট অ্যাটাক সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণা

আসুন জেনে নেই হার্ট অ্যাটাক সম্পর্কে ৫ টি ভ্রান্ত ধারণা সম্পর্কে-

পরিবারের পূর্বপুরুষদের কারো হার্ট অ্যাটাক হয়ে থাকলে তা পরবর্তী প্রজন্মের হতে পারে।
আমাদের মাঝে প্রচলিত একটি কুসংস্কার বা ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে যে, পূর্ব পুরুষদের মাঝে হার্ট অ্যাটাকের প্রবণতা থাকলে বর্তমান প্রজন্মের হার্ট অ্যাটাক বা হূদেরাগের ঝুঁকি অনেকাংশে বেড়ে যায়। এটি মূলত সম্পূর্ণ ভ্রান্ত চিন্তাধারা।কারণ পূর্বপুরুষের কারো হার্টের রোগের সমস্যা থাকলে তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে দেখা যাবে এমন কোনো কথা নেই।কোন ব্যক্তির হার্ট অ্যাটাক হবে কিনা তা নির্ভর করে সম্পূর্ণ তারা নিজের উপর।

মহিলাদের তুলনায় পুরুষরা অল্প বয়সে হার্ট অ্যাটাক বা হৃদ রোগে আক্রান্ত হয়-
মহিলাদের তুলনায় পুরুষরা দ্রুত হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হয় এরকম ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে আমাদের সমাজে কিন্তু এটি সম্পূর্ণ ভুল।কারণ পুরুষদের তুলনায় কম বয়সে মহিলারাও হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হতে পারে। এটি সম্পূর্ন তার মানসিক এবং শারীরিক স্বাস্থ্যের উপর নির্ভরশীল। কোনো নারী যদি মানসিক দুশ্চিন্তা এবং শারীরিক অসুবিধার ভিতর থাকে তবে সেও হার্ট এটাক করতে পারে।

বুকে ব্যথা হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ-


অনেকে মনে করে বুকে ব্যথা হলেই হার্ট অ্যাটাক এর লক্ষন কিন্তু অন্যান্য কারণেও বুকে ব্যথা হতে পারে। তাই বুকে ব্যথা হলে নিশ্চিত হওয়া যাবে না যে তার হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে। যদি সামান্য মুখে ব্যথা থেকে কেউ চিন্তা করে যে তার হার্ট অ্যাটাক হবে।এর ফলে সে মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়বে এবং তার হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি আরো বেড়ে যাবে। এ কারণে বুকে ব্যথা অনুভব করলে দুশ্চিন্তা না করে আগে ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে।

ঔষধ সেবনের মাধ্যমে ডায়াবেটিসের মাত্রা ঠিক রাখলে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি অনেক কমে যায়-
অনেকেই চিন্তা করে ডায়াবেটিসের ওষুধ খাওয়ার মাধ্যমে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে হার্ট এটাক এর ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যায়। তবে এই ধারণার কোন সুপ্রতিষ্ঠিত ভিত্তি নেই। কারণ কোলেস্টেরল, স্থূলতা ছাড়াও অনেক কারণে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।তবে একারণে ডায়াবেটিসকে গুরুত্বহীন ভাববেন না কারণ এটি একটি মারাত্মক সমস্যা যা তিলে তিলে আক্রান্ত ব্যক্তির দেহকে শেষ করে দেয়।

ডায়েট থেকে ফ্যাট জাতীয় খাবার বাদ দিলে হার্ট অ্যাটাকের ঝুকি কমে যায়-


এই ভ্রান্ত ধারণা ট্রাকের ভেতরে কাজ করে যে ডায়েট থেকে ফ্যাট বাদ দিলে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যাবে কিন্তু এ ধারণা সম্পূর্ণ সঠিক নয় কারণ ট্রান্স ফ্যাট এর মধ্যে থাকা হাইড্রোজেন হার্টের জন্য ক্ষতিকর।

তাই সকল ভ্রান্ত ধারণা থেকে বেরিয়ে আমাদের হার্টকে সুস্থ রাখতে হলে সঠিক জীবনযাত্রা সম্পর্কে জানতে হবে এবং স্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস করতে হবে। এর সাথে শারীরিক পরিশ্রম এবং ব্যায়াম করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *