হ্যাকিংয়ের হাত থেকে বাঁচার জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ

বর্তমানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নয়নের আমাদের জীবন অনেক সহজ এবং আরামদায়ক হয়ে গিয়েছে। এখন বিভিন্ন সেবা আমরা হাতের মুঠোয় পাচ্ছি। তথ্য, যোগাযোগ ও ব্যাংকিং সহ প্রায় সকল সুবিধা এই আমরা ঘরে বসে পাচ্ছি। এর ফলে আমাদের জীবন একদিকে যেমন সুন্দর করে তুলেছে।তেমনি অপর দিকে সামান্য অসতর্কতায় বয়ে আনতে পারে বড় কোনো বিপদ। হ্যাকিং হচ্ছে এমন একটা জিনিস যারা সব সময় আপনার তথ্য চুরি এবং আপনার সর্বনাশের তৎপরতায় থাকে। এর ফলে আপনি আর্থিক সহ বিভিন্ন ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারেন। তাই সবারই উচিত এ বিষয়ে সতর্ক থাকা। বিশেষ কয়েকটি বিষয় পারে আপনাদের তথ্য কে সুরক্ষিত রাখতে।

আমরা ইন্টারনেট জগতের প্রতিটি ক্ষেত্রেই পাসওয়ার্ড এর ব্যবহার করে থাকি। এমন অনেকেই আছেন পাসওয়ার্ড সহজে মনে রাখার জন্য সব ক্ষেত্রে একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করেন। এবং সহজ করে পাসওয়ার্ড তৈরি করেন। যা মোটেই ভালো না। আপনি যদি আপনার সবকিছুতেই  একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করেন। যেমন, ফেসবুক,ইমেইল,টুইটার,ইনস্টাগ্রাম এছাড়াও অনলাইন ব্যাংকিং সেবা গুলোর পাসওয়ার্ড।  তাহলে কোন ভাবে যদি আপনার একটি সাইট হ্যাক হয়ে যায় তাহলে আপনি আপনার সম্পূর্ণ নিরাপত্তা নিয়ে হুমকির সম্মুখীন হবেন। কারণ তারা একে একে আপনার সকল কিছুই হ্যাক করার চেষ্টা করবে। তাই আমাদের সকলের উচিত পাসওয়ার্ড কঠিন করে ব্যবহার করা এবং কঠিন ভাবে পাসওয়ার্ড তৈরি করা। অধিকাংশ লোকে পাসওয়ার্ড তৈরি করে তার নাম এবং সাথে কিছু বর্ণ যোগ করে। এ ধরনের পাসওয়ার্ড মোটেই সুরক্ষিত নয়। তাই ভিন্নধর্মী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা উচিত। আমাদের  পাসওয়ার্ড সব সময় তৈরি করা উচিত ছোট বড় বর্ন, সংখ্যা এবং চিহ্নের মাধ্যমে। এতে পাসওয়ার্ড সুরক্ষিত হবে। এবং নিয়মিত পাসওয়ার্ড বদলানো উচিত।

এছাড়া এখন প্রতিটি প্রতিষ্ঠানই সুরক্ষার জন্য টু স্টেপ অথেন্টিকেশন সুবিধা দিচ্ছে। টু স্টেপ অথেন্টিকেশন সুবিধা হচ্ছে এমন একটি সিস্টেম। যেখানে আপনি প্রতিবার কোন সাইটে লগইন করতে গেলে আপনার ফোনে বা ইমেইলে ভেরিফিকেশন কোড আসবে। যার মাধ্যমে আপনাকে লগইন করতে হবে। এই প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে।যদি কেউ আপনার কোন পাসওয়ার্ড জেনেও থাকে তবুও সে আপনার ওই অ্যাকাউন্টে অ্যাক্সেস নিতে পারবে না। কারণ সে যখন এই পাসওয়ার্ড দিয়ে প্রবেশের চেষ্টা করবে ঠিক তখনই আপনার ফোনে বা মেইলে একটি ভেরিফিকেশন কোড আসবে। যে কোডটি ছাড়া হ্যাকার কোন ভাবে আপনার অ্যাকাউন্টে অ্যাক্সেস নিতে পারবে না। কারণ আপনার পাসওয়ার্ড তার কাছে থাকলেও আপনার সিমটি বা মেইলটি তার কাছে নেই।

এরপরে আমাদের সকলের উচিত ওয়াইফাই বা ব্লুটুথ এর কানেকশন সবসময় বন্ধ রাখা। শুধুমাত্র প্রয়োজনের সময়ে এটি ব্যবহার করা। এবং ওয়াইফাই এর ক্ষেত্রে পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা একান্তই জরুরী বিষয়। যদি এগুলোতে পাসওয়ার্ড দেয়া না থাকে তাহলে যে কেউ আপনার তথ্য দেখার চেষ্টা করবে। এটি কখনোই আপনার কাম্য নয়। এছাড়াও ওয়াইফাই ব্লুটুথ এর মাধ্যমে আপনার ডিভাইস বিভিন্ন প্রকার ভাইরাস ও ম্যালওয়্যার প্রবেশ করিয়ে দিতে পারে। এর মাধ্যমে তারা আপনার তথ্য চুরি এবং আপনার উপর নজরদারির মত কাজ করতে পারে।

এছাড়া আপনি যে ইন্টারনেট ডিভাইসটি ব্যবহার করছেন সেটি কতটুকু আপনাকে সুরক্ষা দিতে পারে সে বিষয়ে জেনে নেওয়া। কারণ বর্তমানে নতুন কোন পণ্য বাজারে আসলে আমরা সেটি নিতে আগ্রহী হয়ে পড়ি। তাই পণ্য নির্মাতা কোম্পানিগুলো সুরক্ষা ব্যাপারে ততটা নজরদারি করে না।

এরপরে প্রতিটি ব্রাউজারে এইচটিটিপিএস ব্যবহার করা। এর জন্য” এইচটিটিপিস এভেরিহোয়্যার” টুলসটি ব্যবহার করতে পারেন।

অপরিচিত কেউ কোন লিংক বা ফাইল পাঠালে তা যাচাই বাছাইয়ের মাধ্যমে গ্রহণ করুন। অন্যথায় তা বর্জন করুন।

 

 

(Visited 18 times, 1 visits today)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *