১ বছরের কম বয়সী শিশুদের যে সকল খাবার কখনোই দেওয়া উচিত নয়

শিশুর বৃদ্ধি এবং বিকাশ এর জন্য পুষ্টিকর খাবারের কোন তুলনা হয় না। তবে কিছু কিছু খাবার শিশুর জন্য বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। আর এ কারণে আমাদের জানতে হবে শিশুদের খাবার সম্পর্কে এবং শিশুদের কোন ধরনের খাবার দেওয়া উচিত নয় সেগুলো। কারণ শিশুদের যে সকল খাবার দেওয়া উচিত নয় সেগুলো দিলে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা এবং বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দিতে পারে।তাই আমাদের সকলের জানা উচিত যে সকল খাবার শিশুদের দেওয়া উচিত নয় সে সম্পর্কে।

তাহলে আসুন জানি কোন ধরনের খাবার শিশুদের দেওয়া উচিত নয়-

গরুর দুধ –
গরুর দুধ হচ্ছে একটি সুষম খাদ্য। তবে এটি আপনার ছোট শিশুর জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। কারণ আপনার পরিপাকের ক্ষমতার আপনার শিশুর পরিপাকের ক্ষমতা সমান নয়। আমরা অনেক সময় শিশুদের মায়ের দুধের বিকল্প হিসেবে গরুর দুধ খাইয়ে থাকি। যা মোটেই ঠিক নয় কারণ গরুর দুধে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন ও সোডিয়াম যা শিশুর পরিপাকের সমস্যা ঘটাতে পারে।তাই এক বছরের কম বয়সী শিশুদের কখনোই গরুর দুধ খাওয়ানো উচিত নয়। অপরদিকে শিশুর বিকাশের জন্য আয়রণ এবং ফ্যাটি এসিড এর প্রয়োজন খুব বেশি। কিন্তু গরুর দুধে এটি পর্যাপ্ত পরিমাণে পাওয়া যায় না। এর ফলে মায়ের দুধের বিকল্প হিসেবে শিশুকে গরুর দুধ খাওয়ালে পুষ্টি চাহিদা সঠিকভাবে পূরণ না হওয়ার পাশাপাশি হজমের সমস্যা এবং এলার্জি জনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে।

শিশুকে মধু খাওয়ানো উচিত নয়-
নবজাতক শিশুর মুখে মধু দেওয়া আমাদের রীতি রয়েছে। নতুন কোন শিশু জন্মগ্রহণ হলে তার মুখে মধু দেওয়া হয়। কিন্তু এটি কোনোমতেই ঠিক নয়। কারণ এক বছরের কম বয়সী শিশুদের বটুলিজম হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এবং মধুতে এর ছত্রাক বিদ্যমান থাকে। এছাড়া 6 মাসের আগ পর্যন্ত শিশুর মুখে বাইরের কোনো খাবারই দোয়া উচিত নয়।

শিশুর খাবারের লবণ না দেওয়া-
এক বছরের কম বয়সী শিশুর খাবারে কোনোভাবেই লবণ দেওয়া উচিত নয়। কারণ লবণ রয়েছে সোডিয়াম। ছোট শিশুদের কিডনি সোডিয়াম সহ্য করতে পারে না। তাই অন্তত পক্ষে এক বছর পরে শিশুর খাবারে সামান্য পরিমাণ করে লবন দেওয়া যেতে পারে।

একদম ছোট শিশুকে ডিম না খাওয়ানো-
সদস্যদের ডিম না খাওয়াই ভালো। কারণ এর ফলে শিশুদের হজমের সমস্যা এবং এলার্জি জনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে। পরিবারের অন্য কারো এলার্জি থাকলে শিশুকে ডিম না দেওয়াই ভালো তবে যদি ডিম খাওয়ানো হয় তাহলে খুব অল্প পরিমাণে খাওয়ানো উচিত। 6 মাস থেকে 1 বছর পর্যন্ত।

চকলেট না দেওয়া-
ছোট শিশুদের চকলেট না দেওয়াই ভালো কারণ চকলেট বাচ্চাদের দাঁতের সমস্যা করে এবং চকলেটে থাকা কোকো শিশুদের ক্ষতি করে থাকে।

সবজির বড় টুকরো না খাওয়ানো-
শিশুদের সবজি খাওয়া তাহলে সেগুলো ছোট ছোট টুকরো করে ভালোভাবে সিদ্ধ করে খাওয়ানো উচিত। কারণ বাচ্চারা ভালোভাবে চিবিয়ে খাবার খায় না। তাই সবজির বড় টুকরো তাদের হজমে সমস্যা করতে পারে।

সামুদ্রিক মাছ খেতে না দেওয়া-
সামুদ্রিক মাছেও প্রচুর পরিমাণে পারদ থাকে যা শিশুদের স্বাস্থ্য জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ হয়ে দাঁড়াতে পারে তাই বাচ্চাদের সামুদ্রিক মাছ না খাওয়ানোই ভালো।

শিশুদের কিসমিস না খাওয়ানোর-
শিশুদের কিসমিস খেতে দেওয়া উচিত নয়। কারণ কিসমিসে থাকে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন। যা শিশুরা ভালোভাবে হজম করতে পারে না। তাই একটু বয়স না হলে শিশুদের কিসমিস খাওয়ানো উচিত নয়।

শক্ত চকলেট বা জেলি জাতীয় খাবার না দেওয়া-
শিশুদের কখনো শক্ত চকলেট বা জেলী জাতীয় খাবার খাওয়ানো উচিত নয়।

উপরোক্ত এইসকল বিষয় মেনে চললে শিশুর স্বাস্থ্য ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যাবে। এবং শিশুর সঠিক বৃদ্ধি ও বিকাশ অক্ষুন্ন থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *