৫টি ফ্রি Windows Software – ম্যাজিক্যাল ফিচারসহ

অনেকেই ফ্রি Windows Software খুঁজে থাকেন যাতে করে পেইডের জন্যে পে করতে না হয়। আমাদের দেশের কম্পিউটার ইউজাররা কখনোই পেইড সফটওয়্যার ব্যবহার করেন না।

আর অপারেটিং সিস্টেম হিসাবে ম্যাক কিংবা লিনাক্স থাকলেও আমাদের সকলেরই জানা আছে যে এখন উইন্ডোজের যুগ চলছে।  আর ব্যবহারকারীদের জন্যে ফ্রি উইন্ডোজ সফটওয়্যার

কেননা এক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে মোট কম্পিউটার ইউজারদের মধ্যে ৪৫.৩% মানুষ উইন্ডোজ,২৯.২% মানুষ ম্যাক ও বাকিরা লিনাক্স ও অন্যান্য অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করে থাকে।
এর মাধ্যমেই আপনার হয়তো বুঝতে পারছেন উইন্ডোজ কতটা রাজত্ব করছে বর্তমান দুনিয়ায়।
আশা করি আপনিও একজন উইন্ডোজ ইউজার তাই তো আমার এই পোস্টটি পড়ছেন।
তো চলুন জেনে আসি সাইজে ছোট হলেও , কাজের দিক থেকে একেবারেই অন্যরকম ১০টি ম্যাজিকাল  Windows Software -এর কথা-

১।Everything

অনেকেই হয়তো বুঝেছেন সফটওয়্যারটি  কি নিয়ে। হ্যাঁ ঠিক ধরেছেন । আর যারা বুঝতে পারেন নি তাদের জন্য বলছি এটি মূলত একটি সার্চিং সফটওয়্যার।  আপনার কম্পিউটারে যে কোনো ধরনের ফাইল খুজতে আপনাকে সাহায্য করবে আমাদের এই ছোট্ট যাদুকর।
এখন হয়তো আপনার মনে প্রশ্ন জাগতেই পারে-

                                                  আমার তো একটি ডিফল্ট সার্চ-সফটওয়্যার রয়েছে এটির দরকার কি?

হ্যাঁ আপনার কথা ঠিক । তবে একটা জিনিস লক্ষ করবেন উইন্ডোজের যে ডিফল্ট সার্চ রয়েছে তা দিয়ে সার্চ করতে গেলে যেন হাজার বছর লেগে যায়।
আর এই জিনিসটা থেকে রেহাই পেতেই আপনি ব্যবহার করতে পারেন Everythng নামক এই Windows Software টি।
আর একটা গোপন কথা বলি এর মাধ্যমে আপনি আপনার লক কিংবা প্রাইভেট করা ফাইলটিও খুজে পেতে পারেন।
খুব সহজেই এটি ডাউনলোড করে নিতে পারেন নিজের পিসি কিংবা ল্যাপটপে। ডাউনলোড লিঙ্ক- Everything

২।Unlocker 

ফাইল সাইজ মাত্র ৩৯৩ কিলোবাইট এই Windows Software  টির। কিন্তু তাতে কি, কাজের গুণে যে এটি ১০০ এমবি সফটওয়্যারকেও হার মানাবে।
ফাইল সাইজ খুব ছোট হলেও এটি খুব নিমেষেই আপনার কিছু মাথাব্যাথা ধরানো কোনো ফাইলকে ডিলেট করে দিতে পারে।
মাথাব্যাথা ধরানো বলতে বুঝাচ্ছি আমাদের ল্যাপটপ কিংবা পিসিতে অনেক সময়ে অনেক ফাইল থাকে কিছু পাজি টাইপ যা আপনি হাজার  চেষ্টা করেও মুছে ফেলতে পারেন না।
কিন্তু মুছে ফেলা আপনার জন্য খুব দরকার।
এক্ষেত্রে আমার পরামর্শ একটাই আনলকার ব্যবহার করুন এটি শুধু আপনার নয় বহু মানুষেরই মাথাব্যাথা দূর করে দিয়েছে। তবে বেশি মাতামাতি করে আবার উইন্ডোজের প্রয়োজনীয় ফাইলগুলো ডিলেট করে ফেইলেন না এতে করে লাভের চেয়ে লোকসানই বেশি হবে।
তো দেরি না করে আজই ডাউনলোড করুন সফটওয়্যারটি । লিঙ্ক-Unlocker  

৩।UnChecky-

আনচেকি উইন্ডোজ ইউজারদের জন্য অন্যতম একটি সফটওয়্যার ।
সাধারণত কোনো সফটওয়্যার ইনস্টল করতে গেলে দেখা যায় যে আমাদের অনেক বক্স ফিল/ পূরণ করতে হয়।
এই বক্সগুলোর অনেকগুলোতেই আমাদের কাছে ইনস্টল করা সফটওয়্যারটি বাদেও অন্য সফটওয়্যার ইনস্টল করার অনুমতি চায়।
এদিকগুলোর দিকে বিশেষ খেয়াল রাখতে কেননা আপনি যদি না দেখে সব নেক্সট নেক্সট করে দেন তবে অনেক ম্যালওয়্যার কিংবা রান্সমওয়্যার আপনার পিসি কিংবা ল্যাপটপে ইনস্টল হতে পারে।
যাতে করি ক্ষতির চান্স অনেক বেশি।
তাই এইগুলো এড়াতে আনচেকি আপনাকে দিচ্ছে দারুণ একটি সুবিধা ।
যার মাধ্যমে আপনি ওই ঝামেলা এড়াতে পারবেন। এতে করে সফটওয়্যার ইনস্টল এর সময় আপনার প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার ছাড়া অন্য কিছু ইনস্টল হবে না।
আজকেই ডাউনলোড করে ফেলুন এই ছোট্ট যাদুকরকে মাত্র ১ এমবি এর বিনিময়ে । ডাউনলোড লিঙ্ক-Unchecky

৪।QTTabBar-

অনেক সময়ই কাজের জন্য উইন্ডোজের অনেকগুলো ফোল্ডার একসাথে খুলতে হয়। আর এই সময় উইন্ডোজগুলো এদিকে সেদিকে ছড়িয়ে থাকে। ইচ্ছা করে সব অফ করে রেখে দিই তাই না?
এমতাবস্থায় এমন যদি হতো আপনি উইন্ডোজের ফোল্ডারগুলোও খুলতে পারতাম ব্রাউজারের ট্যাবের মতো। খুব ভালো হতো তাই না?
হ্যাঁ আপনার এই সমস্যাকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে আমাদের এই সফটওয়্যারটি।
QTTabbar এর মাধ্যমে এখন অনেক উইন্ডো একসাথে খুললেও কোনো ঝামেলা পোহাতে হবে না।
আর সবচেয়ে মাথানষ্ট করা ব্যাপারটি কি জানেন?
আপনি মাত্র ৪ এমবি খরচ করেই এর সুবিধা ভোগ করতে পারেন। তো দেরি না করে আজই ডাউনলোড করুন । ডাউনলোড লিঙ্ক-QTTabbar

৫।WinDirStat-

আপনার কম্পিউটারে কোন ফাইল কতটুকু জায়গা দখল করে আছে  তা কি আপনার জানা আছে? বা কখনো জানার চেষ্টা করেছেন?
– উত্তর হয়তো না।
আর কারণও রয়েছে কেননা উইন্ডোজে কোন ফাইল কতটুকু জায়গা দখল করে আছে তা সচরাচর দেখায় না। তাই কখনো জানার আগ্রহ পোষণ করেননি।
কিন্তু এখন যে সফটওয়্যার এর কথা বলব তা আপনার এই কাজকে করে দিবে আরো সহজ ।
শুধু তাই নয় সময়ও বাচাবে বহুগুণে।
হ্যাঁ উইন্ডিরস্টাট এ আপনি পাবেন সব ফাইলের এক বিশদ বর্ণনা।
যাতে থাকছে সেই ফাইলের সাইজ ও কতটুকু জায়গা দখল করে আছে তা।
শুধু তাই নয় সবচেয়ে বড় যে সুবিধা সেটি হলো চার্টের মাধ্যেমে আপনি এইসব জানতে পারবেন। আবার ধরেন আপনি কম্পিউটারের সব জিপফাইল কে ডিলিট করতে চাচ্ছেন। এর জন্য কোন কোন ফোল্ডারে জিপফাইল আছে তা না খুজে এই সফটওয়্যারের চার্টে জিপফোল্ডারের রঙের অংশটি চিহ্নিত করে তা ডিলিট করে দিন। ব্যাস আপনার কাজ হয়ে গেলো অনেক সহজ। দেরি না করে ডাউনলোড করুন আজই। ডাউনলোড লিঙ্ক-Windirstat

বিশেষ জ্ঞাতব্য-

এই ছিল আমাদের আজকের পর্বে আশা করি সবার ভালো লেগেছে। আর উপরে উল্লিখিত সফটওয়্যারগুলো সত্যি অনেক কাজের।
দৈনন্দিন জীবনে এক অন্যতম ভূমিকা রাখতে পারে এগুলো আপনার বিভিন্ন কাজে যদি আপনি তা সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারেন।
আর সঠিক ব্যবহার এর পাশাপাশি কিছু বিষয় যেমন সি-ফোল্ডারের ফাইল্গুলো ডিলিট না করা বা অন্যান্য বিষয়গুলোর প্রতি খেয়াল রাখবেন।

আজ এ পর্যন্তই , এই পর্ব কেমন লাগলো তা কমেন্টে জানাবেন । আর এরকমই টেকনোলজি রিলেটেড তথ্য পেতে আমাদের সাথেই থাকুন। আমাদের ওয়েবসাইটটি ঘুরে আসতে পারেন-বিডিটিপস ।   

পরবর্তী কোনো পোস্টে দেখা হবে। সেই পর্যন্ত আমাদের সাথেই থাকুন। ধন্যবাদ।

About the Author:

আমি আরিফুল, একজন নবীন লেখক। লিখতে ভালোবাসি তাই তো লিখে চলেছি । পড়তে পারেন আমার আর্টিকেলগুলো পাশাপাশি আমার ব্লগ- islamforteenagers.blogspot.com ভিজিটও করতে পারেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!